গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৩ মে ২০২৬ ২১:০৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিদেশীদের গ্রিন কার্ড পেতে হলে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে। গতকাল এ ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতিতে এ পরিবর্তনে অভিবাসী, আইনজীবী ও সহায়তা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 
 
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈধ মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশী নাগরিকরা দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারতেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেছেন এমন ব্যক্তি, কাজ ও শিক্ষার জন্য ভিসাধারী, শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
 
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিভাগ ইউএসসিআইএসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ীভাবে থাকা এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হতে ইচ্ছুক বিদেশীদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে, যদি না ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি’ থাকে। আবেদনকারীরা কোন পরিস্থিতির আওতায় আছেন তা ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা নির্ধারণ করবেন।
 
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষার্থী, অস্থায়ী কর্মী বা পর্যটকদের মতো অভিবাসী নন এমন ব্যক্তিরা স্বল্প সময় ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। আমাদের ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি যে সফর শেষ হলে তারা চলে যাবেন। এমন সফর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করা উচিত নয়।
 
ঘোষণাটি এমন এক সময় এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশীদের জন্য বৈধ অভিবাসন আরো কঠিন করে তুলছে এবং নতুনদের প্রবেশ সীমিত করছে।
 
বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডাগ র‌্যান্ড। সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই নীতির লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। এ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, তারা চান কমসংখ্যক মানুষ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাক। কারণ স্থায়ী বসবাস নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ তৈরি করে, আর তারা যত বেশি সম্ভব মানুষের জন্য সেই পথ বন্ধ করতে চায়।’
 
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় ৬ লাখ মানুষ প্রতি বছর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন।
 
ইউএসসিআইএস এখনো জানায়নি যে পরিবর্তনটি কবে কার্যকর হবে, আবেদনকারীদের পুরো প্রক্রিয়ার সময় বিদেশে থাকতে হবে কিনা কিংবা যাদের আবেদন চলমান তাদের ওপর এটি প্রভাব ফেলবে কিনা।
 
এপি-কে পাঠানো এক ই-মেইল বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, যারা ‘অর্থনৈতিক সুবিধা’ বা ‘জাতীয় স্বার্থে’ অবদান রাখেন, তারা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। অন্যদের বিদেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
 
এর আগে প্রশাসন অনেক দেশের মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিছু দেশের ওপর সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আবার কিছু দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, এসব দেশের মানুষকে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে নিজ দেশে পাঠানো হলে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে নাও পারেন।
 
মানবিক ও শরণার্থী পুনর্বাসন সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিলিফ লিখেছে, যদি পরিবারগুলোকে বলা হয় যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয় সদস্যকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, কিন্তু সেখানে যদি অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াই চালু না থাকে, তাহলে এটি এক ধরনের ‘ক্যাচ-২২’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই নীতিগুলো কার্যত পরিবারগুলোকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আলাদা করে দেবে।
 
ইউএসসিআইএস এ পরিবর্তনকে আইনের ‘মূল উদ্দেশ্যে ফিরে যাওয়া’ এবং একটি ‘ফাঁকফোকর’ বন্ধ করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
 
তবে অভিবাসন আইনজীবী ও সহায়তা সংস্থাগুলো এর বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, অনেক বছর ধরেই অনেক শ্রেণির মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই তাদের অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের সুযোগ পেয়ে আসছেন। এছাড়া অনেকের পক্ষে নিজ দেশে ফেরা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে অথবা আবেদন করার মতো যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নেই। উদাহরণ হিসেবে, ২০২১ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আগফানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ রয়েছে।
 
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক শেভ দালাল-ধেইনি বলেন, ‘ইউএসসিআইএস স্ট্যাটাস পরিবর্তনের কয়েক দশকের প্রক্রিয়াকে ওলটপালট করার চেষ্টা করছে। এটি অত্যন্ত বিস্তৃতভাবে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী প্রায় সবার ওপরই প্রযোজ্য হতে পারে।’
 
তার মতে, এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করা ব্যক্তি, মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসী, কর্মভিসাধারী চিকিৎসক ও পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং ধর্মীয় ভিসাধারীরাও পড়তে পারেন। দালাল-ধেইনি আরো বলেন, বিদেশে অনেক যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষার সময় এক বছরেরও বেশি হতে পারে।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: