সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তাইপেইর কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সিনেটে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও জানান, এই মুহূর্তে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বহর এবং বিশেষ সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রের জোগান ধরে রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার। তবে প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই অস্ত্র চুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে এই বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্যাকেজটি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও তা কার্যকর করতে শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষা ছিল।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাতে ড্রোন বহরে বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। উচ্চপ্রযুক্তির দূরপাল্লার ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোনের প্রায় ২০ শতাংশই এই অভিযানে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। একেকটি ড্রোনের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ কোটি ডলার, যা নিখুঁত নিশানা এবং ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। সব মিলিয়ে এই ড্রোন ধ্বংসের কারণে সামগ্রিক আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: