ইরানের কাছে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবগুলোতে যা যা থাকছে

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৫ মার্চ ২০২৬ ২০:৩৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

সোমবার রাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেদিন আমেরিকান বাজার খোলার আগেই ট্রাম্প কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে আল্টিমেটাম আরও পাঁচদিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

এরপর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাবের কথা বলা হয়। এর ওপর আলোচনায় আতিথেয়তার আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্ত আছেন। তাঁর পাঠানো পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো- ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। অপরদিকে ইসরায়েলের গণমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, ট্রাম্প এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে উভয়পক্ষ একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে।

চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে- ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষিদ্ধ করা। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতও নিশ্চিত করবে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানকে নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ব্যবহার বন্ধ ও ধ্বংস করতে হবে। দেশটির পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের ওপর তদারকি করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। ইতোমধ্যে সঞ্চিত পারমাণবিক সক্ষমতাগুলো নির্মূল এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। সমস্ত সমৃদ্ধ উপাদান আইএইএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি একটি মুক্ত সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, ইরানকে আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীদের অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এগুলোর সংখ্যা ও পাল্লা সীমাবদ্ধ থাকবে, ব্যবহার করতে পারবে শুধু আত্মরক্ষার স্বার্থে।

বিনিময়ে ইরানের ওপর বছরের পর বছর ধরে জারি থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে বলে চ্যানেল-১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া, বুশেহর কেন্দ্রে (ইসলামি বিপ্লবের আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র) ইরানকে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি উন্নয়নে সহায়তা করা হবে। তবে মঙ্গলবারই ইরান অভিযোগ করেছে, বুশেহরে ইসরায়েল দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এর আগে চুক্তি হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই চুক্তির আওতায় ইরানের কর্মসূচি সীমিত এবং বিনিময়ে দেশটির ওপর পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কথা ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের ওপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের কৌশল নেন।

মঙ্গলবার উল্লেখ করা নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকবে। চলমান যুদ্ধ শুরুর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উভয়ই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন। চলতি বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভও হয় দেশটিতে। এতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: