ইরানের দেয়া জবাব প্রত্যাখ্যান করলেন ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১১ মে ২০২৬ ১৯:৪২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
ইরানের পক্ষ থেকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবের জবাব দ্রুত প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করার পর হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে জ্বালানি তেলের দাম। একইসঙ্গে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং অব্যাহত থকে পারে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা।
 
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, কয়েকদিন আগে নতুন করে আলোচনার পথ খুলতে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। গতকাল এর জবাব দেয় তেহরান। সেখানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দেয়া হয়—বিশেষ করে লেবাননে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল।
 
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
 
দেশটির আধা-সরকারী সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আর হামলা না করার নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
 
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে লিখেন, ‘আমার এটা পছন্দ হয়নি। পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ এর বেশি বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ করে পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা ছিল।
 
এদিকে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার খবরে আজ প্রারম্ভিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার বেড়ে যায়। এতে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার আশঙ্কা আরো জোরালো হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এখন প্রণালিটি পুরো সংঘাতের অন্যতম বড় চাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
 
জরিপে দেখা গেছে, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয় নয়। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ছয় মাসেরও কম সময় আগে পেট্রলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে। ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি-না, তা নির্ধারিত হবে এ নির্বাচনে।
 
আন্তর্জাতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি সমর্থন পায়নি। ন্যাটো মিত্ররা পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট ছাড়া হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। পরবর্তী কূটনৈতিক বা সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তাও এখনো স্পষ্ট নয়।
 
আগামী বুধবার ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট নিয়ে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আলোচনায় ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে যাচ্ছে।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: