খাদ্য ও সার মজুত বন্ধ করতে চীনের প্রতি আহ্বান জানালেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৩ মে ২০২৬ ০০:২৬

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট কমাতে চীনের খাদ্য ও সার মজুত করা বন্ধ করা উচিত। এই সংকট মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
 
ডেভিড ম্যালপাস ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্ডার ট্রেজারি সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘ওয়ার্ল্ড বিজনেস রিপোর্টে’ এসব কথা বলেন।
 
ম্যালপাস বলেন, ‘তাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও সারের মজুত রয়েছে। তারা এই মজুত আরও বাড়ানো বন্ধ করতে পারে।’ তাঁর এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে দেশগুলো সার সংগ্রহের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
 
চীন গত মার্চ থেকে কয়েক ধরনের সার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে আরোপ করা বিভিন্ন বিধিনিষেধের ওপর আরও একটি বড় পদক্ষেপ।
 
গত বছর বৈশ্বিক সার উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই ছিল চীনের অংশ। একই সময়ে দেশটির সার রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে থাকা ম্যালপাস আরও বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করার চীনের দাবি এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করে, অথচ তারা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বহু দিক থেকেই ধনী।’
 
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারপরও তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংকে উন্নয়নশীল দেশের পরিচয় ধরে রাখার ভান করছে, যা তারা চাইলে স্থগিত করতে পারে।’
 
চীনের ওয়াশিংটন ডিসি দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক ই–মেইল বিবৃতিতে বলেন, ‘চীন বৈশ্বিক খাদ্য ও সার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নের মূল কারণগুলো স্পষ্ট; এর দায় চীনের ওপর চাপানো যায় না।’
 
ম্যালপাসের চীনের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অবস্থান নিয়ে মন্তব্যের জবাবে লিউ বলেন, ‘চীন সর্বজনীনভাবে বিশ্বের বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত—যার ভিত্তি যথেষ্ট বাস্তব তথ্যপ্রমাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা বজায় রাখা চীনের বৈধ অধিকার।’
 
ম্যালপাস আশা প্রকাশ করেন, চীন হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থার সমাধানে সহায়তা করবে। তাঁর মতে, সমুদ্রপথের মুক্ত চলাচল চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চীন বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত জলপথ থেকে লাভবান হয়। তারা শিপিং লাইন পরিচালনা করে, কনটেইনারের মালিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিপুল মুনাফা করে। তাই ইরান যদি কোনোভাবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তাহলে তারাই বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: