ফাইল ছবি
বিশ্ব যখন এখনো কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে অবস্থানরত একটি জাহাজে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিনজন যাত্রীর মৃত্যু এবং আরও কয়েকজনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে—এটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, হান্টাভাইরাস আক্রান্ত জাহাজ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাত্রীদের সবাইকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা নাও হতে পারে। রোববার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এটি কোভিড নয়। আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই।”
যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার ঘোষণা দেয়, এমভি হন্ডিয়াস নামের জাহাজে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন নাগরিককে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে।
জয় ভট্টাচার্য জানান, যাত্রীদের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হবে। তবে সবাইকে একযোগে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে কি না, তা নির্ভর করবে ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব এবং মূল্যায়ন করব তারা উপসর্গযুক্ত কারো সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”
যাত্রীদের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে নেব্রাস্কা মেডিক্যাল সেন্টারের জীবাণু-নিয়ন্ত্রণ বিশেষ ইউনিট। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র কায়লা থমাস জানিয়েছেন, যাত্রীদের সোমবার ভোরে ওমাহায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকি কম থাকলে কিছু যাত্রীকে নেব্রাস্কায় থাকার অনুমতি দেয়া হতে পারে। আবার কেউ বাড়ি ফিরতে চাইলে এবং তার বাসার পরিবেশ নিরাপদ হলে, অন্যদের ঝুঁকিতে না ফেলে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
জয় ভট্টাচার্য আরও জানান, যাত্রীদের কয়েক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে যাতে বোঝা যায় তাদের মধ্যে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় কি না। কারণ সফরের শুরুর দিকে জাহাজ ছাড়ার পর আরও সাতজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের মধ্যে উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে উপসর্গ দেখা দেয়ার পরই হান্টাভাইরাস অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে একই ধরনের একটি হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময়ও একই ধরনের প্রটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল এবং তখন পরিস্থিতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।
কোভিড-১৯ মহামারির ছয় বছর পর নতুন ভাইরাস ঝুঁকি নিয়ে সীমিত যোগাযোগের কারণে সমালোচনা উঠলেও জয় ভট্টাচার্য বলেন, হান্টাভাইরাস ও কোভিড-১৯ এক ধরনের হুমকি নয়।
তার ভাষায়, “ঝুঁকি যদি অনেক বেশি হতো, তাহলে আমরা অবশ্যই ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতাম। এটি কোভিড নয়।”
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: