সংগৃহীত
বিগত দিনের শাসকরা দেশের মালিক হতে চাইলেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের ‘সেবক’ ও ‘চৌকিদার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্মৃতিচারণা করে অভিযোগ করেন যে, বিচারের নামে অবিচার করে তাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশপ্রেমিক সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষের ওপর চলা জুলুমের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অর্থ হলো আপনি স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনও ফিরে আসতে না পারে, সেজন্যই এই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী পেছনের কামড়াকামড়িতে বিশ্বাস করে না, বরং একটি সমৃদ্ধ আগামীর দিকে এগিয়ে যেতে চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ঋণখেলাপিদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। জামায়াতের কোনো ‘বেগম পাড়া’ গড়ার ইচ্ছা নেই, বরং তারা জনগণের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও আমানতের পাহারাদার হতে চায়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, যে দলের কর্মীরা সামান্য চাঁদার জন্য নিজের ভাইদের জীবন কেড়ে নিতে পারে, তাদের বিষয়ে দেশের মানুষকে নতুন করে ভাবতে হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনগণের ওপর শাসন নয়, বরং সেবক হিসেবে কাজ করবে। মানুষের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং একটি ইনসাফ কায়েম করা সমাজ গঠনই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিশেষে তিনি দেশের মানুষকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: