ছবি: সংগৃহীত
ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের মোয়াল্লেম বুলেভার্ড এলাকায় একটি আটতলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানানো হয়েছে, গ্যাস লিক হয়ে ভবনের ভেতরে গ্যাস জমে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৪ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা নিহত হয়েছে এবং আরও ১৪ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ভবনের নিচের চারটি তলার সামনের অংশ পুরোপুরি উড়ে গেছে। আশপাশের বেশ কিছু যানবাহন ও দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্দর আব্বাসের ফায়ার সার্ভিস প্রধান মোহাম্মদ আমিন লিয়াকত জানান, বিস্ফোরণের পরপরই ভবনটি থেকে সকল বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছে কি না তা তল্লাশি করছে।
এদিকে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা তাংসিরিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স ও তাসনিম এই খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দাবি করেছে, একটি ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
এই বিস্ফোরণ এমন এক সময়ে ঘটল যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকির কারণে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধকালীন সতর্কতা জারি রয়েছে। গত বুধবার ট্রাম্প ইরানকে একটি ‘ন্যায্য’ পারমাণবিক চুক্তিতে সই করার জন্য চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরের দিকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বিশাল নৌবহর রওনা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন, বন্দর আব্বাসের এই বিস্ফোরণের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: