ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৪ মে ২০২৬ ২৩:৩৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে ১৪ দফার নতুন প্রস্তাবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাবে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে যাবতীয় সমস্যার সমাধান এবং শুধু যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত না করে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, ইরান এখনো ‘পর্যাপ্ত মূল্য চুকাতে পারেনি’।

এদিকে ইসরাইল রোববার দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো থেকে হাজার হাজার বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ ইরান বলেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরান যে পরিকল্পনাটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছে তা আমি শিগগিরই পর্যালোচনা করব। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করতে পারছি না, কারণ গত ৪৭ বছরে মানবতা ও বিশ্বের প্রতি তারা যা করেছে, তার জন্য তারা এখনো পর্যাপ্ত মূল্য চুকাতে পারেনি।

শনিবার ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের প্রস্তাবে প্রথমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও শনিবার তিনি জানান, তিনি এখনো সব বিস্তারিত শোনেননি। পুনরায় হামলা শুরু করবেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি সেটা বলতে চাই না। তারা যদি খারাপ কিছু করে, তবে আমরা দেখব। তবে এটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

পারমাণবিক বিষয় নিয়ে আলোচনা পেছানোর বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের বারবার করা দাবির বিপরীত। কেননা ওয়াশিংটন শর্ত দিয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের ৪০০ কেজির (৯০০ পাউন্ড) বেশি অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা ২০১৫ সালের চুক্তির মতো অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে কর্মসূচিতে বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার, অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা নূর নিউজের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৯ দফার পালটা হিসাবে এই ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা সত্ত্বেও দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব উড়োজাহাজের বড় অংশই মূলত পরিবহণ ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: