প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কনফারেন্সে নিষিদ্ধ হল পেন্টাগনের ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-সংবাদপত্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২২ মার্চ ২০২৬ ২২:৩৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তার নিজের সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-কে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সর্বশেষ প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদক ম্যাথিউ অ্যাডামস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে বলেন, ‘পেন্টাগন থেকে এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অনুমোদন পায়নি স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস। আমাকে স্ক্রিনে এটি দেখতে হচ্ছে।’ তিনি পেন্টাগনের একটি সাম্প্রতিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পত্রিকাটির বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আরেক প্রতিবেদক কেভিন ব্যারন এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পেন্টাগন কি তবে তার নিজের সংবাদপত্রকেই কালো তালিকাভুক্ত করল? মনে রাখা প্রয়োজন, স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-এর কর্মীরা মূলত আমেরিকান সেনাবাহিনীর বেসামরিক সদস্য এবং তাদের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা কংগ্রেস দ্বারা সুরক্ষিত, যাতে রাজনৈতিক নেতারা সেনাদের ওপর প্রোপাগান্ডা চালাতে না পারে।’

বাক্‌স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা ‘পেন আমেরিকা’-র টিমোথি রিচার্ডসন বলেন, ‘নতুন নির্দেশিকাগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পেন্টাগন এই প্রকাশনাটিকে নিজেদের প্রচারযন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। এটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর পরিপন্থী।’

গত জানুয়ারিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল ঘোষণা করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস-কে ‘আধুনিক’ করতে চায় এবং ‘উইক ডিস্ট্রাকশন’ বা তথাকথিত অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে সেনাদলের মনোবল বাড়াতে মনোযোগ দিতে চায়। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, পত্রিকাটি সম্পাদকীয় স্বাধীনতা বজায় রাখবে ঠিকই, তবে তাদের অবশ্যই ‘সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক’ কনটেন্ট প্রকাশ করতে হবে।

পত্রিকাটির সম্পাদক এরিক স্লাভিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে (এনপিআর) জানান, পেন্টাগনের নতুন নির্দেশনার কারণে তারা দ্বিধায় পড়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করি যা প্রতিরক্ষা দপ্তরের পছন্দ হলো না, তবে কি আমাদের আইনি জটিলতায় পড়তে হবে? আমরা এর উত্তর জানি না।’ আশ্চর্যের বিষয় হলো, স্লাভিন এই নতুন নীতিমালা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এটি জারির তিন দিন পর।

ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই পত্রিকাটি বন্ধের চেষ্টা রুখে দিয়েছিলেন এবং এটিকে সামরিক বাহিনীর তথ্যের চমৎকার উৎস বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার ঠেকাতে হেগসেথ ও ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের ওপর আরও কঠোর হয়েছেন।

হেগসেথ অভিযোগ করেছেন, গণমাধ্যম ইরান পরিস্থিতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্রকে ছোট করছে। তিনি গত বৃহস্পতিবার সমালোচনামূলক সংবাদ কভারেজের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ট্রাম্প-বিদ্বেষী সংবাদমাধ্যমগুলো আমাদের অগ্রগতিকে খাটো করে দেখাচ্ছে।’ অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, কোনো সংবাদমাধ্যম যদি ‘ভুয়া’ খবর প্রচার করে, তবে তাকে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: