রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের মধ্যেই বড় আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করল ইউক্রেন

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হতাহতের মধ্যেই দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বৈঠকে বসেছেন আট দেশের নেতারা। শুক্রবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনসহ সাতটি আঞ্চলিক দেশের নেতা ও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান।

ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক অঞ্চলের বুকোভেল শহরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে তথাকথিত ‘কারপাথিয়ান এইট’ সম্মেলন। এতে ইউক্রেন, রোমানিয়া, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি অংশ নিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার অন্যতম প্রধান জটিলতা। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে কিয়েভ।

টেলিগ্রামে জেলেনস্কি সম্মেলনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যায়ে সহযোগিতার আরেকটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা। নিরাপত্তা, জ্বালানি, সরবরাহব্যবস্থা, সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তার মতো বিষয়গুলোতে দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

তবে সম্মেলনের সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড হুমকি’ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। নাশকতা, সাইবার হামলা, অপতথ্য ছড়ানো এবং ন্যাটোর ভূখণ্ডে সম্ভাব্য ড্রোন অনুপ্রবেশ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক রয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বলেন, মস্কো ইউক্রেনের সমর্থক ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হাইব্রিড হামলার পরিকল্পনা করছে। পোল্যান্ড, জার্মানি ও ডেনমার্কের কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ড্রোন অনুপ্রবেশ, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও প্রতিরক্ষা স্থাপনার নজরদারির ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বুধবার বলেন, হাইব্রিড হামলার জবাব দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ন্যাটোর মতো একটি ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি এমন ঘটনায় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ব্রিটিশ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইউক্রেনে যুক্তরাজ্যের ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্র সরবরাহ বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়টি দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের অবস্থান সংঘাত দীর্ঘায়িত ও আরও তীব্র করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহৃত ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করেছে মস্কো।

শুক্রবার ফন ডার লেয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি কিস্তি পেয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কেনাসহ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে এ অর্থ ব্যবহারের কথা রয়েছে। চলতি বছর দেশটির বাজেট ঘাটতি প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। জিতোমির অঞ্চলে রুশ হামলায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা। হামলায় গুদাম ও উৎপাদন ভবনে আগুন ধরে যায়।

খারকিভ অঞ্চলে একটি বৈদ্যুতিক ট্রেনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। নভোভোদোলাজকা এলাকার একটি রেলস্টেশনে হামলার পর ট্রেনের দুটি বগিতে আগুন ধরে যায়। জাপোরিঝঝিয়ায় আরেকটি রুশ ড্রোন হামলায় একটি শপিং কমপ্লেক্স ধ্বংস এবং একজন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে জরুরি সেবা।

অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর দেশটির ১৪টি অঞ্চল, ক্রিমিয়া এবং আজভ ও কৃষ্ণ সাগরের ওপর ৬২৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেন, ৩৫০টির বেশি ড্রোন মস্কোর দিকে যাচ্ছিল; এর বেশির ভাগই রাজধানী থেকে দূরে ধ্বংস করা হয় এবং শহরের কাছে ৬৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও হামলায় বাড়িঘর ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রুশ সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা রাতভর ইউক্রেনের বন্দর, জাহাজ ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। চর্নোমর্স্ক বন্দরে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং ওদেসার উত্তর-পশ্চিমে নোভা পোশতার একটি লজিস্টিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে মস্কো।