ভারতে মুসলিম স্থাপনা ভাঙ্গার তীব্র নিন্দা জানালো জামায়াতে ইসলামী হিন্দ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৬ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫২

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, মাদরাসা ও মুসলিম অধ্যুষিত বসতিতে ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ (জেআইএইচ)।

সোমবার দেশটির একটি পত্রিকা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পত্রিকাটি আরো জানায়, সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু বানানোর একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

জেআইএইচের জাতীয় সম্পাদক শফি মাদানি জানান, গত ২৯ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল রাজস্থানের বারমের, জয়সলমির ও যোধপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছে।

তার দাবি, গত এক মাসে রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে একাধিক মসজিদ আংশিক বা সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থানের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা অভিযানের অজুহাতে মসজিদ, দরগাহ ও

মাদরাসা ভাঙায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বহু ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একতরফাভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা ধর্মীয় স্থাপনাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য ধর্মের উপাসনালয় অক্ষত থাকলেও মুসলিমদের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত পূর্ণ আইনি ও নৈতিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি বারমের, বিকানের ও জয়সলমিরে মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রশংসা করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জেআইএইচের সহ-সভাপতি অধ্যাপক সালিম ইঞ্জিনিয়ার দুর্নীতি, নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষাই ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: