ইউরোপের প্রথম স্বাধীন সরকারি ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অনুষদ প্রতিষ্ঠা করল জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৪ জুলাই ২০২৬ ২০:৩০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইউরোপের উচ্চশিক্ষা ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে জার্মানির মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়। ইউরোপের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও স্বাধীন ‘ইসলামিক থিওলজি ফ্যাকাল্টি’ (ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ) প্রতিষ্ঠা করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডয়চে ভেলে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন কর্মী নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৮ জন অধ্যাপক ও ৫০ জনেরও বেশি গবেষক-কর্মী রয়েছেন এবং আগামী বছরগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ অনুষদের মর্যাদা লাভ করে। ফলে এখন থেকে এই অনুষদ নিজেই পিএইচডি ও হ্যাবিলিটেশন ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে।

মুনস্টার শহরে বর্তমানে একটি বিশাল যৌথ ক্যাম্পাস ‘ক্যাম্পাস অফ রিলিজিয়নস’ তৈরি করা হচ্ছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে। এই একই ক্যাম্পাসে ক্যাথলিক, প্রটেস্ট্যান্ট এবং ইসলামি ধর্মতত্ত্ব অনুষদ একসাথে কাজ করবে। তাদের লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়াও থাকবে একই ছাদের নিচে, যা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক।

জার্মানির সরকারি স্কুলগুলোতে বর্তমানে ইসলাম ধর্ম শিক্ষার প্রচলন বাড়ায় শিক্ষকের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুনস্টার যে রাজ্যে অবস্থিত (নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া), সেখানে প্রায় ৩,০০০ ইসলাম ধর্মের শিক্ষক প্রয়োজন হলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ৩৩০ জন। এই অনুষদটি সেই ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে অনুষদটি ‘ইসলাম অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়ার্ক’ (ইসলাম ও সমাজকর্ম) বিষয়ে একটি বিশেষায়িত মাস্টার্স কোর্স চালু করবে। যার মাধ্যমে যুব উন্নয়ন, হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমে ধর্মীয় কাউন্সেলিংয়ের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে।

অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডিন অস্ট্রিয়ান সমাজবিজ্ঞানী ও ইসলামি ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মুহানাদ খোরশিদে (৫৪) জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি উন্মুক্ত, আলোকিত এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে কোরআনের গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া। এই অনুষদটি একই সাথে সব ধরণের চরমপন্থা, ইহুদি-বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান ঘোষণা করেছে।

জার্মানির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অ্যানেট শ্যাভান এই পদক্ষেপকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডিনের মতে, এই অনুষদের কাজ কেবল ইউরোপেই নয়, বরং ইন্দোনেশিয়াসহ পুরো মুসলিম বিশ্বেও ইসলামের আধুনিক ও উদার চর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টির মূল মিলনায়তনে এই অনুষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: