জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণায় ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৩ মে ২০২৬ ২৩:৩৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে মনোযোগ বাড়ানো উচিত বলে গতকাল মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্তোরিয়াস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ইউরোপ ছেড়ে আসা উচিত নয়।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি জার্মানি। পেন্টাগন গত শুক্রবার সেখান থেকে সেনা কমানোর ঘোষণা দেয় । ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক উত্তেজনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এল।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গতকাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অনেক কমিয়ে আনছি। পাঁচ হাজারেরও বেশি সেনা কমানো হবে।’

এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে জো বাইডেন আমলে জার্মানিতে দীর্ঘপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ একটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটালিয়ন মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে বার্লিন জোরালোভাবে এ সাহায্য চেয়েছিল।

রিপাবলিকান সিনেটর রজার উইকার ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক রজার্স যথাক্রমে সেনেট ও হাউসের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির চেয়ারম্যান। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে জার্মানি থেকে সেনা ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তে ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, সেনাদের ইউরোপ থেকে সরিয়ে না নিয়ে বরং পূর্ব ইউরোপে সরানো উচিত।

তারা বলেন, ‘পূর্ণ সক্ষমতা গড়ে ওঠার আগেই ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রবর্তী উপস্থিতি কমিয়ে ফেলা প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে এবং ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে।’

এদিকে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিস্তোরিয়াস বলেন, আংশিক সেনা প্রত্যাহার প্রত্যাশিত ছিল এবং এতে জার্মানিতে বর্তমানে অবস্থানরত প্রায় ৪০ হাজার যুক্তরাষ্ট্রের সেনার একটি অংশ প্রভাবিত হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ইউরোপীয়দের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরো দায়িত্ব নিতে হবে। সেনাবাহিনী সম্প্রসারণ, দ্রুত সামরিক ক্রয় ও অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সঠিক পথে রয়েছে জার্মানি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং বারবার ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নিতে বলেছেন। তবে সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎসের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কৌশল নিয়ে বিতর্কের পর এ হুমকি আরো জোরালো করেন তিনি।

পেন্টাগন জানায়, আগামী ৬-১২ মাসের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে। তবে কোন কোন ঘাঁটি এতে প্রভাবিত হবে বা সেনারা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে নাকি ইউরোপের অন্যত্র মোতায়েন হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের চেয়ে আসছিলেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সবচেয়ে বড় হুমকি বাইরের শত্রু নয়, বরং আমাদের ভেতরকার ভাঙন। এ ধ্বংসাত্মক প্রবণতা থামাতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: