ফাইল ছবি
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। প্রায় তিন বছর পর এ প্রথম তার অবস্থান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুটা স্পষ্টতা এল। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর তার এ স্থানান্তর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সু চির আইনজীবী দলের এক সদস্য গতকাল রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে রাজধানী নেপিদোতে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তিনি এখনো নেপিদোতেই আছেন। আইনজীবীরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহান্তে তারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তরের ফলে নিয়মিত খাবার ও ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
কারাগারে থাকাকালে সু চির সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ ছিল না, তখন মালামাল পুলিশ স্টেশনে রেখে আসতে হতো, এরপর পুলিশ সেগুলো তার কাছে পৌঁছে দিত। এখন গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরিত হওয়ায় আইনজীবী দল সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করতে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এ অভ্যুত্থান দেশটিতে একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দরিদ্র দেশটির বড় একটি অংশ এখনো সংঘাতে জর্জরিত।
অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চির অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। এবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে একটি কাঠের বেঞ্চে দুজন উর্দিপরা কর্মকর্তার সঙ্গে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এটি গ্রেফতারের পর তার প্রথম প্রকাশ্য ছবি, যা সারা বিশ্বের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অভ্যুত্থানের পর সামরিক সরকার সু চির বিরুদ্ধে একের পর এক গোপন বিচারের আয়োজন করে। দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতিতে উসকানি দেয়া এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে তাকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার সমর্থকরা এ অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এগুলো সু চিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্যই করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সাজা কমিয়ে ২৭ বছর করা হয়। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল মিয়ানমার নববর্ষ উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় আরো এক-ষষ্ঠাংশ সাজা মওকুফ করা হয়। যে ক্ষমায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টও মুক্তি পান। গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরের আগে আরো এক-ষষ্ঠাংশ সাজা কমানো হয়, যা একটি ব্যাপক সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
৮০ বছর বয়সী সু চি মিয়ানমারের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক জেনারেল অং সানের কন্যা। এর আগেও তিনি দেশটির পূর্ববর্তী সামরিক জান্তার অধীনে ইয়াঙ্গুনের ইনিয়া লেকের পাড়ে তার পারিবারিক বাসভবনে মোট ১৫ বছর গৃহবন্দি ছিলেন।
মিয়ানমারের সামরিক প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছেন। আসিয়ান জোট মিয়ানমারকে শীর্ষ সম্মেলন থেকে নিষিদ্ধ করার পর সু চিসহ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি আরো জোরালো হয়েছে। সু চির এ গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরকে অনেক বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে তার সমর্থকরা সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: