ফাইল ছবি
ওমান উপসাগরের উত্তরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের নৌবাহিনীর গুলির মুখে পড়েছে দুটি ভারতীয় জাহাজ। এ ঘটনায় নতুন করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ‘জাগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের দুটি জাহাজ সরাসরি গুলির শিকার হয়। এর মধ্যে একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইরাক থেকে বহন করা হচ্ছিল। হামলার আগে জাহাজ দুটি হরমুজ প্রণালী থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি জাহাজের দিকেই গুলি ছোড়া হয়েছে।
যদিও এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত নয়-এমন দেশগুলোর জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হবে না। এই ঘটনার জেরে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা চাইতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় নৌবাহিনী ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে। কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালী এলাকায় বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কোনও যুদ্ধজাহাজ নেই। তবে ওমান উপসাগরে ভারতের দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট ও একটি ট্যাংকার মোতায়েন রয়েছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর এই গুলিবর্ষণকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং হরমুজ প্রণালীতে ‘উন্মুক্ত ও অবাধ নৌচলাচল’-এর পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী, যার মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই পথ দিয়ে সবচেয়ে বেশি জাহাজ চলাচলকারী দেশগুলোর একটি ভারত।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান পূর্বে ভারতকে ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল, যদিও অন্য অনেক দেশের জাহাজকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়ে আটকে রাখা হয়।
এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই ইরান শুক্রবার হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর আসে।
মেরিটাইম ট্র্যাকারদের তথ্যানুযায়ী, প্রায় সাত সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো আটটি তেলবাহী জাহাজের একটি বহর প্রণালী অতিক্রম করেছে। একই দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান প্রণালী খুলতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ট্যাংকারের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার শর্তেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: