ফাইল ছবি
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত শেষে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ বাণিজ্য নিশ্চিত করতে চায় ইউরোপ। সেখানে একটি বহুজাতিক বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করতে ফ্রান্সে জড়ো হয়েছেন কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান। অনলাইনে যুক্ত হবেন আরও কয়েকজন।
শুক্রবার ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ইউরোপের নেতাদের আশঙ্কা, জলপথটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যাভাব এবং জেট ফুয়েলের সংকট বাড়বে।
অনলাইন বৈঠকে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র অনুযায়ী, নেতারা নৌ-চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার দাবি এবং অবরোধের অর্থনৈতিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা করবেন। ওই আমন্ত্রণ পত্রে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে এলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’
এই বাহিনী কেবল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই মোতায়েন করা হবে। প্রধান কাজগুলোর মধ্যে থাকবে সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ এবং প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছে থেকে টোল আদায় বন্ধ নিশ্চিত করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফরাসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা সফল করতে মিত্রদের দুটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। প্রথমত, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে তারা যাতায়াতকারী জাহাজে গুলি চালাবে না। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে যে, তারা হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের প্রবেশ বা প্রস্থানে বাধা দেবে না।
এর আগে ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য একটি ইউরোপীয় বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মাখোঁ ও স্টারমার। সেটিও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মোতায়েনের কথা।
এই বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩০ জন নেতা অংশ নিচ্ছেন। এটি মূলত ইউরোপের জন্য নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। কারণ এতদিন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইউরোপকে অনেকটা সাইডলাইনে রেখেছিল ওয়াশিংটন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের কোনো প্রতিনিধিকে বৈঠকে রাখা হয়নি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে আসা মাত্রই একটি সম্মিলিত সামরিক প্রচেষ্টার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে লন্ডনের নর্থউডে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সদরদপ্তরে বিভিন্ন দেশের সামরিক প্রধানরা বৈঠক করবেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: