ফাইল ছবি
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা ও তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনায় একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি ইমরানের খানের স্বাস্থ্যের অবনতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের খবরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে টানা অবস্থান ধর্মঘট করছে বিরোধী জোট ‘তেহরিক-ই-তাহফুজ-আয়িন-ই-পাকিস্তান’ (টিটিএপি)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ৮৫ শতাংশ কমে গেছে—এমন আশঙ্কাজনক রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞদের একটি দল ইমরান খানের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এ সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণ বিচারিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হচ্ছে। একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইমরান খানকে তার ছেলেদের সঙ্গে ২০ মিনিট টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে তার বোন আলিমা খানম সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষায়িত চিকিৎসায় বিলম্বের কারণে ইমরান খানের চোখের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। তাকে অবিলম্বে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পিটিআই সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজাও অবিলম্বে তাকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
ইমরান খানের সুচিকিৎসার দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে পার্লামেন্ট হাউসের বাইরে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন বিরোধী নেতারা। সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, পশতুনখোয়া মিলি আওয়ামী পার্টির প্রধান মাহমুদ খান আচাকজাই ও পিটিআই চেয়ারম্যান গহর আলী খানের নেতৃত্বে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।
বিক্ষোভ দমনে ইসলামাবাদের রেড জোনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য ইস্যু এখন দেশটির সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: