ওমানে পারমাণবিক আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ওমানে যখন দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে স্পর্শকাতর কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার পররাষ্ট্র দপ্তর তেহরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজের বহরকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেয়।

এই দফায় ১৫টি প্রতিষ্ঠান, ১৪টি জাহাজ এবং ২ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরান এই গোপন শিপিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে তেল বিক্রি করছে। এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ ইরান বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ব্যবহার করে থাকে।

এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘নিজ জনগণের কল্যাণ বা অবকাঠামোতে বিনিয়োগ না করে ইরানি শাসকগোষ্ঠী বিশ্বজুড়ে দমন-পীড়ন ও অস্থিতিশীলতায় অর্থ ব্যয় করছে।‘

এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন ওমানের মাস্কাটে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় বসেছেন। ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনাকে একটি ‘ভালো সূচনা’ বলে অভিহিত করলেও হোয়াইট হাউস কঠোর বার্তা দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জঁ-পিয়েরে সাফ জানিয়েছেন, আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে সামরিক পথও খোলা আছে।

আমেরিকান কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরান জ্বালানি রফতানিতে আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন করবে, ততক্ষণ এ ধরনের ব্যবস্থা চলতেই থাকবে। গত বছরও মোহাম্মদ হোসেন শামখানি নামক এক তেল টাইকুনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার টেবিলে ইরানকে কোণঠাসা করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: