ছবি : সংগৃহীত
পর্তুগালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কোনো কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী রান-অফে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত না।
জরিপগুলো বলছে, রোববারের এ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী ‘চেগা’ দলের নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা প্রথম দফায় শীর্ষে থাকতে পারেন। তবে দ্বিতীয় দফায় যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে তার পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে গত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো প্রার্থী প্রথম দফায় সরাসরি জয়ী হতে ব্যর্থ হবেন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় সরাসরি জিততে হলে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে হয়। রেকর্ড ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র পাঁচজনের দ্বিতীয় দফায় ওঠার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় চূড়ান্ত ভোটে তারা বর্তমান রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসার উত্তরসূরী হওয়ার লড়াইয়ে থাকবেন।
৪৩ বছর বয়সী ভেনচুরা পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তোনিও হোসে সেগুরো (৬৩), ইউরোপীয় পার্লামেন্টের উদারপন্থী সদস্য জোয়াও কোট্রিম ফিগেইরেদো (৬৪), ডানপন্থী সরকারের প্রার্থী লুইস মার্কেস মেন্দেস (৬৮) ও অবসরপ্রাপ্ত নৌ-অ্যাডমিরাল এনরিক গুভেইয়া ই মেলো।
মেলো কোভিড টিকাদান কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পান।
জরিপ সংস্থাগুলো জানায়, দ্বিতীয় দফায় ভেনচুরার সম্ভাব্য চার প্রতিদ্বন্দ্বীর যে কেউই তাকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারেন।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটকেন্দ্র খুলবে। রাত ৮টায় ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
গত মে মাসের সাধারণ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী চেগা দলটি ২২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট ও ৬০টি আসন পায়।
সমাজতান্ত্রিক দলকে ছাড়িয়ে তারা সংসদের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলে পরিণত হয়।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা নেই। তবে সঙ্কটকালে তিনি সংসদ ভেঙে দিতে পারেন, নির্বাচন ডাকতে পারেন কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোববারের ভোটকে মূলত নিজের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন ভেনচুরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে তার।
লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আন্তোনিও কস্তা পিন্তো বলেন, ‘আন্দ্রে ভেনচুরা এই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তার ভোটব্যাংক ধরে রাখার জন্য।’
কট্টর ডানপন্থীদের শক্ত অবস্থান ডানপন্থী লুইস মার্কেস মন্তেনেগ্রোর সংখ্যালঘু সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে। এই সরকার কিছু নীতি বাস্তবায়নে চেগা’র সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিও এক নোটে জানায়, ‘কট্টর ডানপন্থীদের আরেকটি শক্তিশালী ফল রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের আধিপত্য নিশ্চিত করবে।’
পর্তুগালকে ‘শৃঙ্খলায় ফেরানোর’ প্রতিশ্রুতি দেয়া কট্টর-ডানপন্থী ভেনচুরা রান-অফে সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী সেগুরোর মুখোমুখি হলে তার পথে ‘বাধা না দেয়ার জন্য’ ডানপন্থী অন্য দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সেগুরো বলেন, ভেনচুরার ‘চরমপন্থা’ পরাজিত করার সক্ষমতা একমাত্র তারই রয়েছে।
প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোজোনের সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ আসে দেশটি থেকে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: