‘ফিল্টারওয়াচ’-এর প্রতিবেদন

বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে 'স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন' হতে চাচ্ছে ইরান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪৯

ছবি : গ্রাফিক্স ছবি : গ্রাফিক্স

ইরান তার নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ইন্টারনেট সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করছে বলে তথ্য দিয়েছেন ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা। নতুন এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার আর সাধারণ অধিকার থাকবে না, বরং এটি পরিণত হবে সরকারের অনুমোদিত একটি ‘বিশেষ সুবিধায়’।

ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফিল্টারওয়াচ’-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সরকার অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সংস্থাটির প্রধান আমির রাশিদি জানান, ২০২৬ সালের পর ইরানে অবাধ ইন্টারনেট সংযোগ আর ফিরবে না বলে সরকারি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেবল সরকারের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ব্যক্তিরাই ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বাকি সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে কেবল ‘জাতীয় ইন্টারনেট’—যা বিশ্বের মূল ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং সরকারের কঠোর নজরদারিতে থাকা একটি নেটওয়ার্ক।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘতম ব্ল্যাকআউটে পরিণত হয়েছে। ২০১১ সালে মিশরের তাহরির স্কয়ারের আন্দোলনের সময়কার শাটডাউনকেও এটি ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভ দমনে এই ব্ল্যাকআউটকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে তেহরানের বিরুদ্ধে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান গত ১৬ বছর ধরে এই নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা বা ‘হোয়াইটলিস্টিং’ পদ্ধতি গড়ার কাজ করছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই কাজে ইরানকে সহায়তা করছে চীনের প্রযুক্তি। বিশেষ ধরনের ‘মিডলবক্স’ ডিভাইসের মাধ্যমে তারা পুরো দেশের ইন্টারনেট ট্রাফিক মনিটর, স্পাইং এবং নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা ভিপিএন ব্লক করার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

২০১২ সাল থেকেই ইরান সরকার কর মওকুফের প্রলোভন এবং কঠোর আইনি চাপের মাধ্যমে দেশের ব্যাংক, অনলাইন ব্যবসা ও ডাটা সেন্টারগুলোকে তাদের মূল অবকাঠামো ইরানের ভেতরে সরিয়ে নিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও দেশটির অভ্যন্তরীণ সেবাগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: