শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে সামরিক অবস্থান জোরদার করছে ভারত

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূ-চিত্র চীন ও পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে যাওয়ায় নয়া , তার সবচেয়ে দুর্বল কৌশলগত সঙ্কট-সংকটস্থলের সুরক্ষা এবং উত্তর-পূর্বকে রক্ষার জন্য তিনটি নতুন ফরোয়ার্ড ঘাঁটি তৈরি করছে।

শনিবার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারত তার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে একটি সুদূরপ্রসারী সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে রূপান্তর ঘটাচ্ছে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দেশটির সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যকে (সেভেন সিস্টার) সংযোগকারী সংকীর্ণ ২২ কিলোমিটারের একটি ফালি- ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বরাবর এই সামরিক শক্তি সঞ্চয় করা হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তিনটি নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, যা নয়া দিল্লির কৌশলগত অবস্থানে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ধুবড়ির কাছে লচিত বরফুকন মিলিটারি স্টেশন, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপরায় অবস্থিত ফরোয়ার্ড ঘাঁটিগুলি প্রতিরক্ষামূলক গ্যারিসনের চেয়েও বেশি কিছু। এইগুলি হলো দ্রুত মোতায়েন বাহিনী, গোয়েন্দা ইউনিট এবং প্যারা স্পেশাল ফোর্সেস দিয়ে সজ্জিত কৌশলগত সংযোগস্থল। করিডোরটিকে যেন কখনই বিপন্নের মুখে পড়তে না হয় নিশ্চিত করার জন্য এগুলি নকশা করা হয়েছে।

‘‘এই পদক্ষেপের সময়কাল বাংলাদেশে ভূমিকম্প সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত করে। শেখ হাসিনার ভারতপন্থী সরকারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন, যার পররাষ্ট্রনীতি ক্রমবর্ধমানভাবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ড্রোন উৎপাদনে সহযোগিতা করছে, অন্যদিকে পাকিস্তান জেএফ-১৭ ব্লক সি থান্ডার জেট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে’’, বলা হয় প্রতিবেদনে।

একটি সংবেদনশীল সীমান্তের পাশে ভারতের প্রতিপক্ষদের দিকে বাংলাদেশের ঝুঁকে যাওয়া ভারতের জন্য একটি কৌশলগত দুঃস্বপ্ন। সংকীর্ণতম স্থানে মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া শিলিগুড়ি করিডোর দেশটির বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে যুক্ত করেছে। এই অত্যাবশ্যক সংযোগে যেকোনো ধরনের বাধা এই অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

নতুন ঘাঁটিগুলি করিডোরের উপর ওভারল্যাপিং কভারেজ প্রদান করবে, যেখানে চোপরা স্থাপনাটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত। এই ফরোয়ার্ড অবস্থানগুলি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গভীর নজরদারি এবং প্রয়োজনে দ্রুত সৈন্য সমাবেশ সক্ষম করে তুলবে, যা সীমান্ত বরাবর কর্মক্ষম ভারসাম্যতাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

ভারত রাফাল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এটি প্রতিক্রিয়ামূলক প্রতিরোধ থেকে সক্রিয় আধিপত্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট: ক্ষমতার অসামঞ্জস্যতা তাৎপর্যপূর্ণ এবং যেকোনো ভুল গণনার মুখোমুখি হতে হবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির।

‘‘শিলিগুড়ি করিডোর আর কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি সুসংহত কৌশলগত সম্পদ, যা তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রস্তুত একটি জাতি দ্বারা সুরক্ষিত।’’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: