ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) চার দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার পর অনলাইনে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আর মাত্র প্রায় ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে। তবে এই হিসাব পুরোপুরি সঠিক নয় এবং এতে জ্বালানি সরবরাহের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়নি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
ভাইরাল হওয়া এই দাবিতে বলা হয়েছে, এসপিআরে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে এবং প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ব্যবহার হয়। একটিকে আরেকটি দিয়ে ভাগ করেই এই ১৪ দিনের হিসাবটি প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের মজুতের সঙ্গে দেশের মোট পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ব্যবহারের তুলনা করার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহের একমাত্র উৎস এই কৌশলগত মজুত নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক মজুত, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং আমদানির বিশাল খাত রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে এবং তাদের বাণিজ্যিক মজুতে ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে।
তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তেলশূন্য হয়ে পড়ার পথে না থাকলেও, এসপিআরের পরিমাণ কমা নিয়ে উদ্বেগের যৌক্তিকতা রয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকেও যেখানে এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, তা কমে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ নাগাদ প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর এটিই এই জরুরি মজুতের সর্বনিম্ন স্তর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনের আমলেই জরুরি পরিস্থিতিতে এই মজুত থেকে প্রচুর তেল ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দৈনন্দিন সরবরাহ বন্ধের কোনো আশঙ্কা না থাকলেও, যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বড় কোনো সংকটের ক্ষেত্রে এই কমতে থাকা জরুরি মজুত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।