কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নতুন দাবি ট্রাম্পের

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৮ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর এক দিন পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নতুন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে কিম কীভাবে বা কখন সাড়া দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ওভাল অফিসে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি সাড়া দিয়েছেন।’ তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার মিশনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর এক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এসব মহড়ার খরচ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশ না নেওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে এসব সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই নেতা বৈঠকও করেন। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরে সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।

এরপরও কিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, ‘কিম জং উন সবসময় আমার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাকে বুঝি, সেও আমাকে বোঝে।’

এদিকে গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে এবং চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সেনারা অংশ নিয়েছে বলেও বিভিন্ন পক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগে কিম তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া নাও দিতে পারেন। তবে দুই নেতার আবার বৈঠকের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভিক্টর চা মনে করেন, উত্তর কোরিয়া আপাতত অপেক্ষা করতে পারে। তার মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমস্যার মধ্যেও উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গ সামনে আনার পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অ্যান্ড্রু ইয়োর মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক কিমের জন্যও লাভজনক হতে পারে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে কিমের সামনে এমন বৈঠক থেকে হারানোর ঝুঁকি কম; বরং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আবার বৈঠক করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার মর্যাদা ও প্রভাব বাড়তে পারে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের একটি বার্তা প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি ‘নতুন ও ন্যায়সংগত বিশ্বব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: