নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ফেরত পাঠানো হল ট্রাম্পের নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ বিমান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০২৬ ০০:০৯

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

আকাশ ছোঁয়া উচ্ছ্বাস মিলিয়ে যেতে সময় লাগল মোটে আড়াইটি সপ্তাহ। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ নিয়ে চলা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে আবার পাঠানো হচ্ছে সংস্কারের টেবিলে।

গল্পটার শুরু হয়েছিল কাতার রাজপরিবারের দেওয়া এক আকাশচুম্বী উপহার দিয়ে। ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের রাজকীয় বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি আরও চারশ মিলিয়ন ডলার খরচ করে রূপান্তরিত করা হয়েছিল এক উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে। গত ১৯ জুন মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে দাঁড়িয়ে বিমানটির ডিজাইন দেখে মুগ্ধতা ঝরে পড়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। দাবি করেছিলেন, এমন বিলাসবহুল বিমান আগে কেউ কখনো দেখেনি। গত ১ জুলাই নর্থ ডাকোটা যাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন এই বিমানে প্রেসিডেন্টের ডানােলারও শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বাধ সাধল নিরাপত্তা আর গোপনীয়তার বেড়াজাল। বহরে যুক্ত হওয়ার মাত্র আট দিনের মাথায় ন্যাটোর বৈঠক শেষে তুরস্ক থেকে ফেরার পথে হুট করেই নতুন বিমানটি ছেড়ে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠে পড়েন ট্রাম্প। ঠিক তখনই বাতাসে ভেসে বেড়ায় ইরানের গোপন ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন। এর পরদিন ৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে আসল সত্য, নতুন এই উড়ন্তপ্রাসাদে অনুপস্থিত ছিল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অতিজরুরি সব প্রযুক্তি। সিএনএন যোগ করে, তড়িঘড়ি করে সাজাতে গিয়ে বাদ পড়ে গেছে বহু স্ট্যান্ডার্ড ফিচারও।

ত্রুটির কথা স্বীকার তো দূরে থাক, এমন সংবাদ প্রকাশে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া তথ্যের উৎস খুঁজতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস ও এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের চার সাংবাদিকের ঠিকানায় পৌঁছে যায় সমন।

তবে সব বিতর্ক আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রবিবার নিজের মুখেই রক্ষণাবেক্ষণের কথা স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট। নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরে আসার পর জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানালেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের জন্য গ্রাউন্ডে পাঠানো হচ্ছে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানকে।

২০২৮ বা তারও পরের নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে কাতারের বিলাসবহুল উপহারটিকে তড়িঘড়ি করে প্রেসিডেন্টের উপযোগী করতে গিয়ে যে ত্রুটি তৈরি হয়েছিল, এই পুনর্সংস্কারের মাধ্যমেই হয়তো তার মাশুল দিতে হচ্ছে হোয়াইট হাউসকে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: