নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে আসা নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করলেন মামদানি

Maisha Mumtaz | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৩

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

জোহরান মামদানি আবারও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু যদি নিউইয়র্কে আসেন, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।

সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি এ কথা বলেন। তিনি জানান, বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুকে আমি যেভাবে দেখি, সেভাবেই বলেছি তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো ভয়াবহ গণহত্যার মূল কারিগর।

কয়েক মাস ধরেই তিনি নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সময় তাকে গ্রেফতারের কথা বলে আসছিলেন। তবে মেয়র হিসেবে তার এমন কোনো আইনি ক্ষমতা নেই। সম্প্রতি তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে নেতানিয়াহুর সফর ঠেকানোর ক্ষমতাও তার নেই। তাই সফরবিরোধী বিক্ষোভে তিনি অংশ নেবেন না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে মামদানি বলেন, এই পরোয়ানাকে সম্মান জানানো উচিত এবং অভিযুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে। কোনো দেশ নিজে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে নির্দিষ্ট শর্তে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেউই আইসিসির সদস্য নয়। ইসরাইল আদালতের এখতিয়ারও মানে না। তাদের দাবি, ফিলিস্তিন সার্বভৌম রাষ্ট্র না হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের বিষয়েও আইসিসির কোনো এখতিয়ার নেই।

গাজায় গণহত্যার অভিযোগও ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলে, বেসামরিক হতাহত কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে এবং হামাস বেসামরিক মানুষকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। বুধবার নিউইয়র্কে পৌঁছে শুক্রবার ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সময়সূচি এখনো ঠিক হয়নি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প ও মামদানির বৈঠকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মজীবী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প বলেন, আশা করি আপনি একজন দুর্দান্ত মেয়র হবেন। শুরুটা ভালোই করেছেন।

মামদানি জানান, নগরীর প্রতি প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে ট্রাম্পসহ যে কারও সঙ্গেই আলোচনা চালিয়ে যাবেন তিনি।

গত বছরের নির্বাচনে মামদানির জয়ের পর ওভাল অফিসে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল।