হোয়াইট হাউসের ‘পুল’ ভিডিও কভারেজ স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টিভি নেটওয়ার্কগুলো

Maisha Mumtaz | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

হোয়াইট হাউজে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবাদসংক্রান্ত কার্যক্রমের ভিডিও কভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান টেলিভিশন সংবাদ নেটওয়ার্কগুলো।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ ও এনবিসিসহ কয়েকটি নেটওয়ার্ক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে সোমবার নিষিদ্ধ তিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেয়া অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

ট্রাম্পের সংবাদমাধ্যমবিরোধী লড়াইয়ে এই নিষেধাজ্ঞাকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ ও এনবিসিসহ টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর জোট ঘোষণা করে, নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা হোয়াইট হাউজের টিভি পুলের কভারেজ বন্ধ রাখবে। সিএনএনও এই পুলের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সরবরাহের দায়িত্ব ভাগ করে নেয় এই টিভি পুল।

নেটওয়ার্কগুলোর ঘোষণার পর হোয়াইট হাউজ অনলাইনে নিজেদের একটি ফিড প্রচার শুরু করে। এর নাম দেয়া হয় ‘ট্রাম্প টিভি’। সেখানে প্রশাসনের ‘গুরুত্বপূর্ণ পুরনো মুহূর্ত, ঘোষণা এবং সর্বশেষ খবর’ এক জায়গায় তুলে ধরার কথা বলা হয়।

হোয়াইট হাউজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘রিয়েল-টাইম আপডেট ও সরাসরি সম্প্রচার সরাসরি আপনার ফোনে পান। কোনো বাড়তি শব্দ নয়। শুধু গুরুত্বপূর্ণ খবর—ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে সরাসরি।’

প্রেসিডেন্টের কোনো সফর বা প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউজের টেলিভিশন পুলের প্রতিনিধি না থাকা অত্যন্ত বিরল। ১৯৫০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে আসছে নেটওয়ার্কগুলোর ক্যামেরা।

সোমবার সিএনএনকে নিষিদ্ধ করার কারণে ট্রাম্পের একটি অনুষ্ঠানে কোনো সম্প্রচারমাধ্যম উপস্থিত ছিল না। ওই অনুষ্ঠানে নতুন হোয়াইট হাউজ হেলিপ্যাড উদ্বোধন করা হয়। হোয়াইট হাউজ অবশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু পেশাদার মাইক্রোফোন ও অডিও ব্যবস্থা না থাকায় পেছনে চলতে থাকা হেলিকপ্টারের শব্দে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায় শোনা যায়নি।

সপ্তাহান্তে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হঠাৎ করে এসব সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক খবর’ প্রকাশ করায় তিনি বিরক্ত। শনিবার সিক্রেট সার্ভিস সাংবাদিকদের প্রেস ব্যাজও কেড়ে নেয়।

সোমবার ফক্স নিউজের ওয়াশিংটন ব্যুরোপ্রধান ও বর্তমানে টিভি পুলের চেয়ারম্যান ব্রায়ান বটন সদস্যদের এক ইমেইলে লেখেন, ‘আজ থেকে টিভি পুল প্রেসিডেন্টের পুল কভারেজ হিসেবে নির্ধারিত কোনো অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে না।’ তিনি বলেন, সিএনএনকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার হোয়াইট হাউজের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত।

নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি সংহতি জানিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানায়, হোয়াইট হাউজের ফটোগ্রাফি পুলের তোলা ছবি তারা প্রকাশ বা বিতরণ করবে না। এর মধ্যে ছিল মেরিন ওয়ানে ট্রাম্পের ওঠানামা এবং নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে তার বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি। এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর রাখার কথা বলা হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট একে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

পাঁচটি সংবাদ নেটওয়ার্কের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সরকার সম্পর্কে নির্ভুল ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। কোনো প্রশাসন তার সংবাদ প্রকাশে আপত্তি জানিয়ে কোনো সংবাদ সংস্থাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না।’

টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো ভিডিও কভারেজ বন্ধ রাখলেও প্রিন্ট, রেডিও ও সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রেস পুল ট্রাম্পের দিনভর চলাফেরা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়া অব্যাহত রেখেছে।

শুক্রবার ট্রাম্প হঠাৎ করে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউজ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তার দাবি, এসব সংবাদমাধ্যম ‘নিয়মিত কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রকাশ বা প্রচার করে। শনিবার এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মীদের হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

অন্য সংবাদমাধ্যম ও প্রথম সংশোধনী-সংক্রান্ত অধিকারকর্মী সংগঠনগুলো ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করে। তারা একে মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করে।

সোমবার সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তারা ফেডারেল বিচারকের কাছে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে বন্ধ করা এবং হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতিপত্র ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন করে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলেন, তার পদক্ষেপ ‘মুক্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা’ নয়। বরং তিনি ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ হুমকি মোকাবেলার কথা বলেছেন। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজে বিজয় তোরণ ও বলরুম নির্মাণের পক্ষে যুক্তি দিতেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একই দাবি ব্যবহার করেছেন।