সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরানের পাশাপাশি এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা চলমান সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
তবে রণক্ষেত্রে এমন উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে ওয়াশিংটন যখন তেহরানের পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত শান্তি প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিল, ঠিক তখনই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর তিনটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার জাহাজের ওপর হামলা চালানো হয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা জাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি করতে না পারলেও পাল্টা প্রতিরোধে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি হননি। ট্রাম্প বলেন, তারা আমাদের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছি।
অন্যদিকে, তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছে। ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি বেসামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কেশম দ্বীপসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিমান হামলার অভিযোগও তুলেছে ইরান। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা চাবাহার বন্দরের অদূরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে পাল্টা আক্রমণ চালায়। ইরানের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তা অস্বীকার করেছে।
এই সংঘাত কেবল সমুদ্রপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আজ শুক্রবার (৮ মে) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান বারবার আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে, কারণ এসব দেশে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: