ফাইল ছবি
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২০ বছর এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে নিজেদের প্রস্তাব রাখেন। তবে এই ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধে আটকে আছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এরপরও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে এবং দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করবে যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে।’
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনাও এখন চরমে আছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার থেকে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু হয়েছে।
এর আগে যুদ্ধের শুরুতে ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এই খেলায় দুজনই অংশ নিতে পারে। ইরান যদি অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে জড়াতে চায়, তবে তাদের জাহাজও বন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে তারা কোনো বাধা দেবে না। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অন্তত একটি তেলবাহী ট্যাংকার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চীনের উদ্দেশে ওই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এদিকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধকে তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেক ফ্রন্টে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আজ যুক্তরাষ্ট্রে লেবানন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: