ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইউএফসি লড়াইয়ে ট্রাম্প

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:১৯

সংগৃহীত সংগৃহীত

পাকিস্তানে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা চলছিল, তখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে মিয়ামিতে একটি ইউএফসি লড়াই উপভোগ করতে দেখা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, আলোচনা চলাকালীন তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ভ্যান্স বলেন, "গত ২১ ঘণ্টায় আমরা তাঁর সঙ্গে কতবার কথা বলেছি তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না; হয়তো ডজনখানেকবার হবে। আমরা দলের সঙ্গে সবসময় সংযুক্ত ছিলাম কারণ আমরা গুরুত্বের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলাম।"

কোনো চুক্তি ছাড়াই দুই দেশের প্রতিনিধিদল এখন ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছে। রবিবার সকালে জেডি ভ্যান্সসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পাকিস্তানের রাজধানী ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটিও তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

দেশ ছাড়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি আমাদের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি নেতিবাচক হবে, কারণ তেহরান আমাদের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।"

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ৪০ দিনের সংঘাতের পর এক ধরণের অবিশ্বাসের পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এক বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত ছিল না।

উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দশক ধরে চলা দ্বন্দ্ব নিরসনে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরুর পর উত্তেজনা প্রশমনে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। তবে সেই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: