কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি রিজার্ভের সদস্যদের প্রাণহানির খবর নিয়ে বিতর্কের জন্ম

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

১লা মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি রিজার্ভের ছয় সদস্য নিহত হয়। আরও ২০ জনের বেশি আহত হয়। এই ঘটনাই ছিল চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যুদ্ধজনিত প্রাণহানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, একটি ইরানি স্কুইর্টার ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়ে এবং একটি সুরক্ষিত ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে আঘাত হানে। কিন্তু সেনাবাহিনীর ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সদস্যরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে এই দাবির বিরোধিতা করেন।

তাদের মতে, হামলাটি সরাসরি একটি কম সুরক্ষিত স্থাপনায় আঘাত হানে। যা হেগসেথের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক আহত সেনা বলেন, ‘একটা ড্রোন কেবল ফাঁক গলে ঢুকে পড়েছিল’- এভাবে চিত্র তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভুল। আমি চাই মানুষ জানুক, আমাদের ইউনিট নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুতই ছিল না। এটি কোনো সুরক্ষিত অবস্থান ছিল না। আরেকজন সেনা সদস্য জানান, তাদের ইউনিটকে একটি পরিচিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীর লজিস্টিক ইউনিটকে এমন একটি ঘাঁটিতে রাখা হয়েছিল, যা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই ছিল। সকালে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সেনারা নিরাপদে আশ্রয় নেয়। কিন্তু হামলার ঠিক আগে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেয়া হয়। সেই সংকেতের ৩০ মিনিট পরই ইরানের ড্রোনটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে।সংবাদ বিশ্লেষণ সেবা

একজন সেনা সদস্য স্মৃতিচারণ করে বলেন, সবকিছু কেঁপে উঠছিল। ঠিক সিনেমার মতো দৃশ্য- কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, চারদিকে ধুলো আর ধোঁয়া। হামলার পরের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ- ‘মাথায় আঘাত, প্রচণ্ড রক্তপাত, চারদিকে শেল ও স্প্লিন্টার ছড়িয়ে ছিল’। সেনারা জানান, হামলার পর উদ্ধার কার্যক্রমও দুর্বল ছিল। আহতরা নিজেরাই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং বেসামরিক যানবাহন ব্যবহার করে হাসপাতালে পৌঁছায়।

অন্যদিকে, সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী শন পারনেল এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, আমাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে আদৌ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ড্রোনটি এগিয়ে আসার সময় কোনো সতর্ক সংকেতও শোনা যায়নি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: