ফাইল ছবি
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। তবে এ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভ্যান্স বলেন, ‘খার্গ দ্বীপে কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা ছিল, এবং আমার বিশ্বাস আমরা তা সম্পন্ন করেছি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই হামলায় জ্বালানি বা অবকাঠামো খাতকে লক্ষ্য করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে না বলেও জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ইরান এমন কোনো প্রস্তাব না দেওয়া পর্যন্ত, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, অথবা কোনো প্রস্তাবই না দেওয়া পর্যন্ত আমরা জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা করব না।’
ভ্যান্স আরও বলেন, খার্গ দ্বীপে সাম্প্রতিক এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না এবং এটি প্রেসিডেন্টের নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুশেহর প্রদেশের ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ক্ষুদ্র প্রবালদ্বীপ ইরানিদের কাছে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কঠোর পাহারায় থাকা এই দ্বীপে কেবল বিশেষ অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরাই যেতে পারেন।
বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়। বছরে প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল এখান থেকে বিদেশে যায়।
দ্বীপটির চারপাশের গভীর পানি জ্বালানি তেলের বিশাল জাহাজগুলো নোঙর করার জন্য এক প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। এখান থেকেই প্রধানত এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে তেল রপ্তানি করা হয়। ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনটি প্রধান তেলক্ষেত্র- আবোজার, ফোরুজান ও দোরুদ থেকে তেল এখানে আসে এবং প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: