ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মধ্যে সামরিক পরিকল্পনা উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করা হবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এমন পরিকল্পনা প্রকাশ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জ্যাকি হাইনরিখকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের পরিকল্পনা বলতে পারি না। যদি পরিকল্পনা বলে দিই, তা প্রায় সাংবাদিককে বলার মতোই খারাপ—বরং আরো খারাপ হতে পারে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েন করা হচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের ঘটনাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। “দেখা যাক, আমরা কিছু করতে পারি কি না। না পারলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে,” বলেন তিনি। তিনি আরো জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ ইরান অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে।
এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় একজন কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব ইরানের ওপর সম্ভাব্য কোনো হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে সৌদি কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা স্পষ্ট করেনি।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মতে, ইরান প্রায়ই আলোচনার প্রস্তাব দেয়, তবে এসব আলোচনা আদৌ কোনো চুক্তিতে গড়াবে কি না, সে বিষয়ে তারা সন্দিহান। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “তারা আলোচনা করছে, দেখা যাক কী হয়।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতীত আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, আগের প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং ভবিষ্যৎ ফলাফলও সময়ই বলে দেবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অর্থায়ন ও সম্ভাব্য শাটডাউন নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আলোচনা ভেঙে পড়লে এর দায় ডেমোক্র্যাটদের নিতে হবে। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)–এর এজেন্টদের মুখ ঢাকার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের দাবির প্রশ্নে ট্রাম্প মন্তব্য এড়িয়ে যান।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধের হার ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: