ফাইল ছবি
বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং `জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য কমনওয়েলথ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বড় আকারের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
লন্ডন থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন। কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড চলতি মাসের শুরুতে এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট আকুফো-আডোর সাথে রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, লিঙ্গ সমতা এবং নির্বাচন প্রশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ কমনওয়েলথ বিশেষজ্ঞরা যুক্ত থাকবেন। লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের (Head and Adviser, Electoral Support Section) নেতৃত্বে সচিবালয়ের একটি দল এই পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।
গত ২১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে কমনওয়েলথ জানায়, তাদের পর্যবেক্ষক দলের মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়াটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশ জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ড মেনে চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তার ভিত্তিতেই এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলে মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেফরি সালিম ওয়াহিদ, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জন ফ্রান্সিস, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর রাস আদিবা মোহা রাদ্জি ছাড়াও কানাডা, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিশ্চিত করেছে যে, ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডার প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক তাদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনে (EOM) যোগ দেবেন। এই মিশনের নেতৃত্বে থাকবেন লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভারস ইজাবস। এতে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের আরও সাতজন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, যারা ১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফর করবেন।
ইইউ মিশনের মূল দল গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। ১১ জন বিশ্লেষকের এই দলটি আইনি, রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী প্রচারণার দিকগুলো খতিয়ে দেখছে। এছাড়া ১৭ জানুয়ারি সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে তাদের সাথে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক যোগ দেবেন।
ভোটের দিন আন্তর্জাতিক আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইইউ জানিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়কারী এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “পর্যবেক্ষকদের এই আগ্রহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর তাদের আস্থার প্রতিফলন। এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক হবে।”
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্রসহ প্রায় ২,০০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: