
পাকিস্তানে সরকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে সমঝোতা সংলাপ আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এমন জল্পনা কল্পনার মধ্যে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএলএন) প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তার রাজনৈতিক শত্রু ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সমঝোতা সংলাপের জন্য উন্মুক্ত বলেই মনে হচ্ছে। এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, সরকার এবং এস্টাবলিশমেন্ট স্বীকার করে পিটিআই একটি জনপ্রিয় দল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এস্টাবলিশমেন্ট এ বিষয়ে পক্ষে মনে হলেও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সরকার এখনও সতর্কতা অবলম্বন করছে। সূত্রগুলো বলছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে কথার লড়াই চললেও তারা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। এখনও আলোচনার পক্ষে কথাবার্তা, বিবৃতি দেয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংলাপ শুরু হয়নি। সবাই এটা মনে করেন যে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের ভেতর চলমান উত্তেজনা সমাধানে একসঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকার, পিটিআই এবং এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা সবাই সংলাপের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় প্রভাব বিস্তার করে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। যেকোনো সংলাপের অগ্রগতি নির্ভর করবে তার ইঙ্গিত বা অনুমোদনের ওপর। এর আগে পিটিআইয়ের সঙ্গে তার মেয়ে ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াহের সংলাপের সম্ভাব্যতা প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সময় তিনি পিটিআই’কে একটি বিঘ্নসৃষ্টিকারী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এবার পিএমএলএনের একজন সিনিয়র নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, এবার ইমরান খানের সঙ্গে সংলাপে রাজি হতে পারেন নওয়াজ। কিন্তু সংলাপ নিয়ে সরকার তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য গণ অসংহতি অথবা ডেডলাইনের হুমকির ভিতর সংলাপ হতে পারে না। এমন অবস্থায় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে সহসা যে সংলাপ শুরু হবে এমন কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে সংলাপের জন্য সরকার ও পিটিআই উন্মুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। সূত্র বলেছেন, ২৬ নভেম্বরের পূর্বে পিটিআই এবং সুনির্দিষ্ট মহলের মধ্যে সংলাপ প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে অগ্রসর হচ্ছিল। পিটিআই’কে এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, ইসলামাবাদের ডি-চকের র্যালি থেকে সরে এলে তবেই তা পিটিআইয়ের জন্য স্বস্তির হতে পারে। কিন্তু ২৬ নভেম্বর রাতের বিক্ষোভ এবং এসব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় বিরূপ পরিবেশ।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: