ফাইল ছবি
ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধাদের অব্যাহত হামলা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মিসর।
দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে রিয়াদের সুরক্ষায় মোতায়েনের অনুমতি চেয়ে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টের সবুজ সংকেত মিললে আরব বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটি সরাসরি এই আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। এতে করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত চরম অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং উপসাগরীয় মিত্রদের শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার ওপর কায়রোর দীর্ঘদিনের নির্ভরতাই এই সামরিক পদক্ষেপের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের মুক্ত পথ সুগম রাখাও মিসরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে মিসরীয় বন্দরে ড্রোন হামলা ও সুয়েজ খালের রাজস্বে টান পড়ার ঝুঁকি কায়রোকে সক্রিয় হতে বাধ্য করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সিসির বাহিনীর বড় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌবহর থাকলেও তারা হয়তো সরাসরি ইয়েমেনের মাটিতে স্থলসেনা নামাবে না। বরং লোহিত সাগরে টহল, উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সৌদি আরবকে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়াই হবে তাদের মূল সামরিক কৌশল।