ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় ইইউ-এর কাছে অতিরিক্ত ৭৯ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাইলেন জেলেনস্কি

Maisha Mumtaz | ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৫

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী বছর তার দেশের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের কাছে প্রায় আট হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন ও দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

শুক্রবার ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সাথে বৈঠকের পর এ আহ্বান জানান জেলেনস্কি।

ডিজেল সরবরাহ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর ট্রাম্পের সাথে কিয়েভের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটে।

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারো হামলা চালানোর নির্দেশ দেয়ায় ইউক্রেনের কর্মকাণ্ডকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির তুলনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সমঝোতা করা সহজ।

ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি একান্তভাবেই ইউক্রেন ও ইউক্রেনের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কটের দায় তার ওপর চাপানো হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি শুধু মুচকি হাসেন।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি বলেন, ‘এটাই আমার উত্তর।’

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে সর্বশেষ বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মস্কোর পক্ষ নিচ্ছেন কি না, তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সেই উদ্বেগ আরো বেড়েছে। এর ফলে রাশিয়ার তীব্র বোমাবর্ষণ মোকাবেলায় ইউক্রেনের সক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্টারশিল্ড ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা, রাশিয়ার দখলকৃত এলাকায় মাঝারি পাল্লার হামলা এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথের হুমকি মোকাবেলায় ব্যবহৃত প্রতিরোধী ড্রোন পরিচালনার কাজে ব্যবহার করে। এছাড়া স্পেসএক্সের বেসামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকও ব্যবহার করে ইউক্রেন। তবে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে স্টারলিংক ব্যবহার করা হয় না।

জেলেনস্কির কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক অবশ্য বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান এই সেবা ব্যাহত করার জন্য দায়ী নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।

ইইউ নেতাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ের প্রতি অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের সমর্থন রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মার্কিন জনগণই তাদের মতামত জানাবেন।’

ট্রাম্পের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ইউরোপীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘এখন ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের সময় নয়। রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করারও সময় নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমাদের সমর্থন বাড়াতে হবে, রাশিয়ার ওপর চাপও বাড়াতে হবে।’

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন বলেন, ‘বর্তমানে ইউক্রেনের পরিস্থিতি সত্যিই অত্যন্ত সঙ্কটজনক। দেশটিতে রাশিয়ার একের পর এক হামলা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কও উত্তেজনাপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ ইউরোপ হিসেবে ইউক্রেনের প্রতি আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন দেখানো এবং আরো কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।’

তবে শুধু মৌখিক সমর্থন দিয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এ জন্য ইউরোপীয় নেতাদের বাস্তব আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিতে হবে।

জেলেনস্কি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ইউক্রেনকে আরো প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র দেয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আগামী বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত সাত হাজার কোটি ইউরো বা প্রায় সাত হাজার ৯০০ কোটি ডলার সহায়তা চান তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এই পরিমাণ অর্থ চাওয়া বাস্তবসম্মত। আমি আপনাদের এই সহায়তার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি রাশিয়াকে প্রতিহত করতে আমাদের সাহায্য করবে।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন নিশ্চিত করেন, অতিরিক্ত সাত হাজার কোটি ইউরোর অর্থায়নের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অংশীদার দেশগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ইইউ নেতারা অর্থায়নের ব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব ইউরোপীয় কমিশনকে দিয়েছেন।