কূটনৈতিক অনিশ্চয়তার ঘটিয়ে ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
কয়েক দিনের কূটনৈতিক ধোঁয়াশার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি।
 
বৃহস্পতিবার চীন ও ভারতের পক্ষ থেকে শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
 
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌‌‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।’ 
 
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালের দিকেও শি জিনপিংয়ের নয়াদিল্লি সফর নিয়ে পরিষ্কার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়া-কুন। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে চীনা প্রেসিডেন্ট ভারতে যাচ্ছেন কি না; সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে জানানোর মতো কোনো তথ্য নেই।’
 
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার সীমান্ত সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়। সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ভারতীয় ২০ সৈন্য এবং চীনের সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হন। সেই তিক্ততার দীর্ঘ সাত বছর পর এবারই প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং।
 
এর আগে, ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সর্বশেষ ভারত সফর করেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
 
দুই নেতাই নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম মেয়াদে থাকাকালে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন শি জিনপিং। পরে ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দ্বিতীয়বার ভারতে যান তিনি।
 
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং ও নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির চীন সফর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার পর ওই পরিবর্তন দেখা যায়।
 
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর ভারত যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সম্প্রতি তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। ইলেকট্রনিকস ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বৈশ্বিক এ দুই পরাশক্তির বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের সচল হচ্ছে।
 
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চলতি মাসের শুরুতে কিরগিজস্তানে এক আঞ্চলিক ফোরামে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় দুই নেতা একমত হন, উভয় দেশ ‘প্রতিযোগী নয়, বরং একে অপরের অংশীদার এবং পরস্পরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, সুযোগ।’
 
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলেছে, ভারতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন বেইজিংয়ের পক্ষ থেকেই কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে সংবেদনশীল প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন শিল্প জড়িত, সেসব বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার আগে যাচাই-বাছাই করছে বেইজিং।
 
কড়াকড়ির পরও গত বছর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যা ১০ বছর আগের বাণিজ্যের (৭ হাজার ১৬০ কোটি ডলার) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
 
এমনকি চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও ২৩ শতাংশ বেড়েছে।