নেপালে টানেলে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে পাহাড়ে বিস্ফোরণ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৫৯

ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

নেপালের ত্রিশূলী নদীর তীরে কাদায় ভরা বিশাল টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে শত শত কর্মী আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভয়াবহ বন্যায় ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯০০ জনেরও বেশি কর্মী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর তাদের উদ্ধারে পাহাড়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির কাজ চলছে।

বিবিসি নেপালি জানায়, ভোটেশোশী-ত্রিশুলি নদীর বন্যায় গত বুধবার থেকে এই বিপর্যয় শুরু হয়। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজরাম বসনেত জানান, রাসুওয়াগাধি, লাংটাং, চিলিমে, আপার ত্রিশুলি ৩এ এবং আপার ত্রিশুলি ৩বি এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পথ তৈরির পাশাপাশি সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো হচ্ছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকাদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

এদিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সংশোধন করে ৩ হাজার ৯২৫ জন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীনা ও নেপালি সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই আন্তর্জাতিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

ভূগর্ভস্থ অনুসন্ধান অভিযানে দূর থেকে সহায়তা করা অস্ট্রেলিয়ান প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানান, প্রলয়ংকরী বন্যায় ভূগর্ভস্থ এলাকাগুলোর মূল অবয়ব এতটাই বদলে গেছে যে সুড়ঙ্গগুলোর সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে চিতওয়ান জেলায় হিমালয় অঞ্চল থেকে ভেসে আসা প্রায় তিনশ অজ্ঞাত মৃতদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হচ্ছে এবং পরবর্তী শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিব্বতে এই বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষ তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।