ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কর্নাটকের শিবামোগার আরএমএল নগরে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের জন্য নির্মিত একটি কাটআউটের ওপর ফিলিস্তিনের পতাকা লাগানোর অভিযোগে পুলিশ তিনজন মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্তদের নিহাল (ওরফে বেক্কু), উমর এবং আবরাহার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রথম তথ্য বিবরণী (এফআইআর) অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট ভারতী সভা ভবনের কাছে তিন যুবক একটি কাঠামোর ওপর উঠে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেন এবং সেটির ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি নজরে আসার পর দোদাপেটে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩৫৩(২), ১৯৬(১) এবং ১৯৭ ধারায় ওই তিন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই ধারাগুলো সাধারণত সর্বজনীন বিদ্বেষ সৃষ্টি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, যেভাবে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে, তা সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে পারতো।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিহাল (ওরফে কাটকুট ওরফে বেক্কু)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ উমর ও আবরাহারকে খুঁজছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করা কীভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হতে পারে।
অনেকের মতে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা ভারতীয় আইনে কোনো অপরাধ নয়। ভারত ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে 'দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান'-কে সমর্থন করে এসেছে এবং বহু দশক ধরে ফিলিস্তিনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলে লেখেন, "কবে থেকে নিপীড়িত মানুষের প্রতি সংহতি জানানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে?"
আরেকজন ব্যবহারকারী ভারতের অবস্থান উল্লেখ করে জানতে চান, "কোন আইনের অধীনে এটি অপরাধ?"
তৃতীয় এক ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক শত্রুতার ধারা প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "ফিলিস্তিনের পতাকা তোলায় কী অপরাধ হলো? এটি কীভাবে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি করবে?"
তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি কেবল ফিলিস্তিনের পতাকা দেখানোর ওপর নির্ভর করে করা হয়নি। যে উপায়ে এটি করা হয়েছে, ভিডিওটি ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
তিন যুবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। চলমান পুলিশি তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।