দক্ষিণ চীন সাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপে সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে বেইজিং

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৯

ছবি : ইন্টারনেট ছবি : ইন্টারনেট

দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের অ্যানটেলোপ রিফের নিকটবর্তী একটি ছোট দ্বীপে নতুন ও সন্দেহজনক স্থাপনার দৃশ্যমান উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনাকৃত সাম্প্রতিক কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্রে এই নির্মাণযজ্ঞের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় করতে বড় ধরনের ঘাঁটি বা নজরদারি কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যান্টর’ জানিয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিলে এই নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর সর্বশেষ ১৭ আগস্টের চিত্রে একটি ত্রিমুখী কাঠামোর রূপ স্পষ্ট হয়েছে। ইয়াগং দ্বীপে দৃশ্যমান এই স্থাপনার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা না গেলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি অ্যানটেলোপ রিফের প্রধান সামরিক কার্যক্রমকে সহায়তা করার জন্য একটি ‘আর্লি ওয়ার্নিং রাডার’ বা পূর্বাভাস প্রদানকারী রাডার কেন্দ্র স্থাপনের অংশ হতে পারে। দক্ষিণ চীন সাগরের অন্যত্র থাকা সামরিক রাডারগুলোর সঙ্গে এর বেশ মিল রয়েছে।

এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে চীন অ্যানটেলোপ রিফে তাদের নির্মাণকাজের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছে। প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই কৃত্রিম দ্বীপে ৩ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সোজা উপকূলরেখা রয়েছে, যা অনেকে সম্ভাব্য রানওয়ে হিসেবেও দেখছেন। তবে বেইজিং বরাবরই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে যে, এসব অবকাঠামো মূলত আবহাওয়া পূর্বাভাস, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হবে।

১৯৭৪ সাল থেকে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা বেইজিংয়ের এই তৎপরতা ওই জলপথে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, এই জলপথের সার্বভৌমত্ব নিয়ে চীন ছাড়াও ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ চলে আসছে।