নতুন চুক্তির আওতায় ইরানের জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৯ জুন ২০২৬ ১৮:৩৪

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে কাতারের মাধ্যমে দেশটির জব্দ থাকা ৬০০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার কোম শহর সফরকালে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শোবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেজেশকিয়ান এ ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে ইরানের জনগণের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কাতারে ইরানের মোট ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার আটকে রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৬০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে এবং বাকি অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াও চলছে।’

তিনি বলেন, এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনা এবং ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এমনকি স্কুলশিক্ষার্থীদের হত্যার পরও জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী ও সরকার ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে রক্ষা করেছে।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সর্বশক্তি দিয়ে ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল এবং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে দেশটিকে দুর্বল করে ফেলবে বলে মনে করেছিল। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধ ও ঈশ্বরের সহায়তায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

পেজেশকিয়ান আবারও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করছি যে, আমাদের পারমাণবিক কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন এবং ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ইসরাইলকে এই চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরাইল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো চুক্তির বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ছাড়া যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, জনগণের জন্য খাদ্য ভর্তুকির ঋণসুবিধা বাড়ানোর মতো সহায়তামূলক পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: