ফাইল ছবি
জাকার্তায় মুদ্রাবাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে। এতে দেশটির অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার এক ডলারের বিনিময় হার প্রথমবারের মতো ১৮ হাজার রুপিয়াহ অতিক্রম করেছে। একই দিনে দেশটির শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। চলতি বছরের শুরু থেকে বাজারমূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পুঁজিবাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর ইন্দোনেশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বেড়ে রুপিয়াহর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সংসদীয় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছেন আইনপ্রণেতারা, যা ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উৎকণ্ঠা। অনেকের আশঙ্কা, মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং বিনিয়োগ হ্রাসের ঝুঁকি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়বহুল জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও কিছু পণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তও বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে রুপিয়াহর রেকর্ড দরপতন ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: