ফিলিস্তিনে স্থানীয় নির্বাচনের উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১০

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

দীর্ঘদিন পর ফিলিস্তিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হলেও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) জন্য এটি আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি প্রমাণের একটি ‘বক্স টিকিং’ বা দায়সারা প্রক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। আল-বিরহ থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নূর ওদাহর এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা দেশে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাধারণ মানুষের কাছে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অনেকখানি ম্লান হয়ে গেছে। গাজার মানুষ যখন বেঁচে থাকার লড়াই করছে, তখন পশ্চিম তীরের মানুষ লড়াই করছে জাতিগত নিধন, ভেঙে পড়া অর্থনীতি এবং ইসরায়েলি অসহনীয় নীতির বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় নির্বাচন তাদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার মূল কেন্দ্র রামাল্লায় নির্বাচনের কোনো প্রকৃত প্রতিযোগিতাও নেই। সেখানে একটিমাত্র তালিকা জমা পড়েছে, যা সরাসরি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অনুসারী। ফলে রামাল্লার বাসিন্দারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন না; বরং তাঁদের জন্য আগে থেকেই প্রতিনিধি নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের অর্ধেকের বেশি কাউন্সিলের চিত্র একই রকম।

এদিকে নির্বাচনী আইনে পরিবর্তনের কারণে ফিলিস্তিনের প্রধান রাজনৈতিক দল ও উপদলগুলো এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরে গেছে। আল-বিরহ শহরে তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী তালিকা থাকলেও অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক শক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক জায়গায় নির্বাচন তার প্রকৃত জৌলুশ ও গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হারিয়েছে।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের কাছে এখন প্রধান সংকট জীবনধারণ। ইসরায়েলি দখলদারির কারণে সংকুচিত অর্থনীতি এবং প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা চাপের মুখে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যালট পেপার এখন বিলাসিতা মাত্র। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই নির্বাচন জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারে, তবে এটি কেবল আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে খুশি করার একটি রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭২ হাজার ৫৬৮ এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৮ ছাড়িয়েছে। ছয় মাস ধরে নামমাত্র যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাত্যহিক হামলায় প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: