যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ চলাকালে কোনও তেল রফতানি হবে না: ইরান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১০ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৭

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

ইরান মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ চলাকালে পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রফতানি হতে দেয়া হবে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে যে দাবি করেছেন, তার জবাবেই এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হবে’ এমন মন্তব্যের পর আগের দিনের তেলের দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কিছুটা সংশোধন হয়। এর আগে ইরানের হামলার কারণে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরই ইরান জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা শুরু করে।

ইরানের একটি তেল ডিপোতে হামলা এবং সৌদি আরব ও বাহরাইনের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলার পরও তেলের দাম বেড়ে যায়।

তবে ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্যের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম বাজার খোলার সময় ১৫ শতাংশ কমে যায় এবং এশিয়ার শেয়ারবাজার সোমবারের ধস থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবুও উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে।

এদিকে মিসর জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আর পাকিস্তান জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে তারা নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দেবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ট্রাম্পের মন্তব্যকে বিদ্রূপ করে বলেছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের কাছে এ অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রফতানি হতে দেবে না।’

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা নির্ধারণ করব।’ সংগঠনটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ অঞ্চলের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ এখন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে। আমেরিকান বাহিনী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন আমরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে প্রস্তুত।’

আরাঘচি আরো বলেন, তার বাবা নিহত হওয়ার পর মুজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পরও তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের সাথে আবার আলোচনা করা আমাদের অ্যাজেন্ডায় থাকবে বলে আমি মনে করি না।’

অন্যদিকে ট্রাম্পও যুদ্ধ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। আর যদি আবার শুরু হয়, তবে তাদের আরো কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমরা ইতোমধ্যে জয়ী হয়েছি, তবে এখনো পুরোপুরি জিতিনি।’

তবে পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সতর্ক করেন, তেহরান যদি তেল রফতানিতে বাধা দেয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে বোমা হামলা চালাবে যাতে ইরানকে ‘রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’

তিনি লেখেন, ‘তাদের ওপর নেমে আসবে মৃত্যু, আগুন ও ক্রোধ। তবে আমি আশা করি ও প্রার্থনা করি যেন তা ঘটতে না হয়।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেকানিয়াহুও বলেছেন, সঙ্ঘাত আরো চলতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের জনগণ এ সুযোগে দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনের সময় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের জনগণকে অত্যাচারের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়া। শেষ পর্যন্ত তা তাদের ওপরই নির্ভর করছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা তাদের শক্তি ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো থামিনি।’

সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতীকী ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে এবং একপর্যায়ে দিনের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তা দ্রুত কমে আসে।

তেলের দাম স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে ফোনালাপের পর তিনি কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবেন।

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে পৌঁছায়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখেঅঁ সোমবার বলেন, তার দেশ ও মিত্ররা প্রণালীটি পুনরায় চালু করতে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ একটি মিশন নিয়ে কাজ করছে। সঙ্ঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায় শেষ হলে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: