জাপান–চীন উত্তেজনার মধ্যে জাপান থেকে ফিরছে শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৩২

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর দ্রুত বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এর জেরে চীন জাপানকে দেওয়া তাদের পান্ডা ফেরত নিচ্ছে।

জাপানের একটি চিড়িয়াখানায় গতকাল রোববার কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেছিলেন। তারা কান্নাভেজা চোখে জাপানের শেষ দুটি জায়ান্ট পান্ডাকে বিদায় জানিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার সেখানে থাকা পান্ডা দুটি চীনে ফেরত যাচ্ছে।

টোকিওর উয়েনো চিড়িয়াখানায় থাকা যমজ পান্ডাশাবক শাও শাও ও লেই লেইকে বিদায় জানাতে রোববার আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো পান্ডাশাবক দুটিকে দেখতে দর্শনার্থীরা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন।

চীনের পক্ষ থেকে পান্ডা ফেরত নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পান্ডাশাবক দুটি চলে গেলে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপান সম্পূর্ণ পান্ডাশূন্য হয়ে পড়বে। ওই বছরই চীন ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়, যার অংশ হিসেবে চীন প্রথমবারের মতো জাপানে পান্ডা পাঠিয়েছিল।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে চীন আন্তর্জাতিক পরিসরে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে জায়ান্ট পান্ডা উপহার দিয়ে আসছে। এই কৌশলটি বিশ্বজুড়ে ‘পান্ডা কূটনীতি’ নামে পরিচিত।

তবে চীনের এই উপহার আদতে ধার হিসেবে থাকে। অর্থাৎ চীন উপহার পাঠানো পান্ডার মালিকানা বিদেশি রাষ্ট্রকে দেয় না। দেশটি পান্ডার মালিকানা নিজের হাতে রাখে, এমনকি বিদেশে জন্মানো পান্ডাশাবকও এ নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। শুধু তা–ই নয়, পান্ডা গ্রহণকারী দেশগুলো প্রতি জোড়ার জন্য বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার ফি দেয়।

টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের তথ্যানুযায়ী, উয়েনো চিড়িয়াখানায় প্রিয় পান্ডাগুলোকে শেষবার দেখার জন্য প্রায় এক লাখ আট হাজার মানুষ প্রতিযোগিতা করেছেন। অথচ মাত্র ৪ হাজার ৪০০ দর্শনার্থী প্রবেশের সুযোগ ছিল, তাই ইচ্ছা থাকার পরও সবাই পান্ডা দেখার সুযোগ পাননি।

ছেলেকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসা এক নারী বিবিসিকে বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে তার ছোটবেলা থেকে এখানে নিয়ে আসছি। আশা করি, এটি তার জন্য একটি ভালো স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাদের মনে রাখতে আজ এখানে আসতে পারায় আমরা খুবই খুশি।’

অন্য এক নারী বলেন, তিনি পান্ডাগুলোকে একেবারে ছোট বয়স থেকে বড় হতে দেখছেন, যা সত্যিই আনন্দের অভিজ্ঞতা।

কয়েকটি ছবিতে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের কাউকে কাউকে পান্ডাশাবকদের বিদায় জানাতে গিয়ে কাঁদতে দেখা গেছে। শাও শাও এবং লেই লেই ২০২১ সালে উয়েনো চিড়িয়াখানায় জন্মে। সেগুলোর মায়ের নাম শিন শিন এবং বাবা রি রি। এই দুটি পান্ডাকে প্রজনন গবেষণার জন্য জাপানে ধার দেওয়া হয়েছিল।

গত কয়েক বছরে অনেক পান্ডা চীনে ফেরত এসেছে। সাধারণত একটি পান্ডা ধার চুক্তি ১০ বছর মেয়াদি হয়, যদিও হরহামেশাই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি পায়।

দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চীনের নতুন করে জাপানে পান্ডা ধার দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: