ছবি : সংগৃহীত
সেনা পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড এখনও তার হাতের মুঠোয় আসেনি, তবে যে কোনও মুহূর্তে সেনা অভিযান চালাতে পারেন। কানাডার দিকেও তার নজর ছিল। আমেরিকার ৫১ তম প্রদেশ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু মুখের উপর ‘না’ শুনতে হয়েছে। মঙ্গলবার সেই ভেনেজুয়েলা, কানাডা এবং গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার ভূখণ্ড দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলেন ট্রাম্প। তার পরেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ দিন ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওভাল অফিসে তিনি বসে আছেন। সামনে সেক্রেটারিয়েট টেবিল। তার ওপারে বসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার, ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লোয়েন-সহ আরও অনেকে। তাদের হাত নেড়ে ট্রাম্প কিছু একটা বলছেন। ট্রাম্পের পাশে রাখা আমেরিকার নতুন মানচিত্র। সেখানে ভেনেজুয়েলা গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডাকে আমেরিকার ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। এ দিন আরও একটি ছবি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। তাতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করছেন তিনি। পাশের সাইনবোর্ডে লেখা, ‘GREENLAND – US TERRITORY, EST. 2026’। এই দু’টি ছবি ঘিরে কূটনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে, কী ভাবে একের পর এক সার্বভৌম দেশকে নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করতে পারেন ট্রাম্প?
গত ৩ জানুয়ারি রাতের অন্ধকারে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় আমেরিকার ডেলটা ফোর্স। তার পরেই ট্রাম্প ঘোষণা করে দেন, ‘আমেরিকাই এখন ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।’ এমনকী ভেনেজুয়েলার তেলেও তার দখল থাকবে বলে সোজাসুজি জানিয়ে দেন তিনি। যদিও তার পরে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। কিন্তু নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি ট্রাম্প।
মাদুরোকে তুলে নিয়ে আসার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পরেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। কোনও রাখঢাক না রেখে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমার চাই।’ ট্রাম্পের যুক্তি, চীন-রাশিয়া যাতে সেখানে আধিপত্য কায়েম করতে না পারে তার জন্যই এই ভূখণ্ডের দখল নিতে চান তিনি। অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের দিকেই তার আসল নজর।
একই ভাবে পরোক্ষভাবে কানাডা দখলের ইঙ্গিতও আগেই দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত বছরে নির্বাচনের আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমেরিকার ৫১ তম প্রদেশ হয়ে গেলে, কানাডাকে বিনামূল্যে গোল্ডেন ডোম (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) দেব।’ তবে ভোটে জেতার পরেই ট্রাম্পের আবদার খারিজ করে দিয়েছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কর্নি।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: