ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক এক ইরানি বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে ইরান সরে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দৃষ্টি ওই মামলার দিকে যাওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
ইরান ২৬ বছর বয়সী ইরানি বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সম্ভাবনার কথা তুলেছিল।
তার পরিবারের একজন সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে আটক করা হয়েছিল।
সোলতানির পরিবারের সদস্য সোমাইয়েহ সিএনএনকে জানান, দিনের শুরুতে যে সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা তখন হয়নি। তবে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড বাতিলও করা হয়নি এবং পরিবার আরো তথ্যের অপেক্ষায় আছে।
নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও বুধবার গভীর রাতে জানায়, সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। গত সপ্তাহে তেহরান থেকে প্রায় ২৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ফারদিস শহরের বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘মৌলিক অধিকার দাবি করার কারণেই ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শাসনামলে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি ইরানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ ১৪ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল, তাদের মধ্যেই একজন।’
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে সোমাইয়েহ বলেন, এর ফান সোলতানি অত্যন্ত সদয় ও উষ্ণ হৃদয়ের তরুণ। তিনি সব সময় ইরানের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।’
সোমাইয়েহর মতে, মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর সোলতানিকে কোনো আইনজীবী দেওয়া হয়নি এবং আপিল করার সুযোগও রাখা হয়নি। তিনি আরো বলেন, সোলতানির বিচার প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে তড়িঘড়ি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও সাজানো বিচার নতুন কিছু নয়, এটি সেখানে প্রায়ই ঘটে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ‘এবার ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকার তাদের প্রচলিত ১০ মিনিটের সাজানো বিচারটুকুও করার প্রয়োজন মনে করেনি।’
বুধবার প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’ তিনি আরো দাবি করেন, ‘এসংক্রান্ত বিপরীত খবরগুলো একটি ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রচারণার অংশ, যার উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উসকানি দেওয়া এবং তাকে এমন এক বিষয়ে জড়ানো, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।’
এদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা যায়, ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ গত সপ্তাহান্তে বলেন, যাদের তিনি ‘সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছেন—সেসব বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘কোনো শিথিলতা, দয়া বা আপস ছাড়াই।’ বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তাদের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক জনগণের কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ তথ্য পেয়েছে, যার ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও জানায়, গত বৃহস্পতিবার এরফান সোলতানিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের চার দিন পর তার পরিবারকে জানানো হয়, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার হেঙ্গাও আরো জানায়, সোলতানির মামলার বিষয়ে তার পরিবারকে কোনো তথ্যই দেওয়া হয়নি—এমনকি তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা-ও জানানো হয়নি। তার বোন একজন অনুমোদিত আইনজীবী হলেও মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এখনো তাকে নথিপত্র দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে সংস্থাটি জানায়।
হেঙ্গাওর মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারকে শুধু সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য শেষবার দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও ভাবছিলেন বলে জানা যায়। মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার সতর্কবার্তা দেন এবং বলেন, তা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
হত্যাকাণ্ড থেমে গেছে। মৃত্যুদণ্ডও বন্ধ হয়েছে।’
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড বা কোনো ফাঁসি কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাকে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা জানানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি দেখব। যদি তা ঘটে, আমি খুবই ক্ষুব্ধ হব।’ তবে এই তথ্য তিনি কোন সূত্র থেকে পেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি তখন বিস্তারিত জানাননি।
এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আমরা খুবই কঠোর পদক্ষেপ নেব।’ তবে তিনি সেই পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা বিস্তারিত বলেননি। ট্রাম্প আরো জানান, তিনি ফাঁসি দেওয়ার কোনো খবর শোনেননি, কিন্তু এমন কিছু ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: