সংগৃহীত
সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে পড়েছে পুরো ইরান। বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব থেকে ইরান এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, বহু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র দেশটির অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো সীমিত পরিসরে কিছু তথ্য সরবরাহ করতে পারছে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাঙ্গাকারীরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং 'বিদেশি ভাড়াটে' হিসেবে কাজ করছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি সম্পত্তিতে হামলাকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত মাসের শেষ দিকে লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন একটি বড় গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে জ্বলন্ত বাস, গাড়ি এবং পুড়িয়ে দেওয়া ব্যাংক ও মেট্রো স্টেশন। ইরান সরকার এই নাশকতার জন্য নির্বাসিত বিরোধী গোষ্ঠী পিপলস মুজাহিদিন অর্গানাইজেশনকে (এমকেও) দায়ী করছে। কাস্পিয়ান সাগর উপকূলীয় রাশত শহরের এক সাংবাদিক বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি 'যুদ্ধক্ষেত্রের' সঙ্গে তুলনা করেছেন।
পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটের চাপে থাকা ইরান সরকার বর্তমানে এই অস্থিরতা মোকাবিলায় দ্বিধাবিভক্ত বার্তা দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যখন 'সর্বোচ্চ সংযম' প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছেন, তখন খামেনি ও প্রধান বিচারপতি দাঙ্গাকারীদের 'যথাযথভাবে দমনে' কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে, চলমান সহিংসতা ও প্রাণহানি রোধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব ইরানি কর্তৃপক্ষকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: