চাঁদের সাথে আকস্মিক সংঘর্ষের পথে স্পেসএক্স রকেটের একটি অংশ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ আগস্ট ২০২৬ ২২:৪৪

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স
এক বছরেরও বেশি আগে দুটি চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা স্পেসএক্সের একটি রকেটের ওপরের ধাপ এখন চাঁদের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের পথে রয়েছে।
 
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, বুধবার এটি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাঁদের মাটিতে একটি নতুন গর্ত তৈরি হবে এবং বিপুল পরিমাণ ধুলা ও শিলাখণ্ড মহাকাশে ছড়িয়ে পড়বে। ঘটনাটি পর্যবেক্ষণের জন্য বিজ্ঞানী ও আকাশপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
 
মহাকাশে বিভিন্ন বস্তু অনুসরণে বিশেষজ্ঞ বিল গ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রকেটটি ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কিলোমিটার (প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল) বেগে চাঁদে আঘাত হানবে, যা শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। 
 
আঘাতটি চাঁদের সূর্যালোকিত পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত আইনস্টাইন ক্রেটারের কাছে ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটলেও দেশটির পূর্বাঞ্চল, কানাডা এবং দক্ষিণ আমেরিকার বেশিরভাগ এলাকা থেকে এটি তুলনামূলক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
 
যদিও এই নির্দিষ্ট মহাকাশ আবর্জনাটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের বড় ধরনের উদ্বেগ নেই, তবু ঘটনাটি পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান মহাকাশ আবর্জনার সমস্যার দিকটি আবারও সামনে এনেছে।
 
বিল গ্রে বলেন, ‘মহাকাশে ক্রমেই বিভিন্ন বস্তুর ভিড় বাড়ছে।’ তিনি কানাডার নিউ ব্রান্সউইক থেকে সংঘর্ষ-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করেছেন।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের উদ্দেশ্য কখনোই রকেটটিকে চাঁদে আঘাত করানো ছিল না। তবে উৎক্ষেপণের পর রকেটের ওপরের ধাপটিকে সূর্যকেন্দ্রিক একটি কক্ষপথে পাঠানো হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি হবে চাঁদের সঙ্গে কোনো নিষ্ক্রিয় রকেটের দ্বিতীয় অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ। এর আগে ২০২২ সালে চীনা রকেটের একটি অংশ চাঁদের দূরবর্তী অংশে আঘাত হেনে দুটি গর্ত তৈরি করেছিল।
 
এবারের সংঘর্ষটি ঘটবে চাঁদের পৃথিবীমুখী অংশে। এর আঘাতের শক্তি প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরকের সমান হবে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষের সময় যে আলোর ঝলক তৈরি হবে, তা এক সেকেন্ডেরও কম স্থায়ী হবে এবং পৃথিবী থেকে তা দেখা কঠিন হবে। তবে আঘাতে সৃষ্ট ধুলা ও শিলাখণ্ডের মেঘ কয়েক মাইল পর্যন্ত মহাকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং প্রায় কয়েক মিনিট টেলিস্কোপে দৃশ্যমান থাকতে পারে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, ‘চাঁদের মহাকর্ষ কম এবং সেখানে বাতাস নেই। তাই ধুলা দ্রুত সরে যায় না।’
 
তিনি পেশাদার ও অপেশাদার, উভয় ধরনের পর্যবেক্ষকদেরই ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন।
 
ই-মেইলে ফার্নান্দো বলেন, ‘ভবিষ্যতে চাঁদে যাওয়া নভোচারীদের জন্য মহাকাশ আবর্জনার আঘাত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটি বোঝার ক্ষেত্রেও এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ।’
 
তার ধারণা, সংঘর্ষে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর (প্রায় ৯০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীর) একটি গর্ত তৈরি হবে। এটি পৃথিবী থেকে দেখা যাবে না, তবে চাঁদের কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানগুলো সেটি স্পষ্টভাবে ধারণ করতে পারবে।
 
ঘটনার আগে ও পরে সংঘর্ষস্থলের ছবি তুলবে নাসার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি চন্দ্র কক্ষপথযান।


আপনার মূল্যবান মতামত দিন: